Published : 30 Dec 2025, 01:17 PM
সঠিক নীতিমালা বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান।
বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ন্টটির এআই বিভাগের সিইও সুলেইমান বলেছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় থাকাটা ‘ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয়’।
“আমি সততার সঙ্গেই মনে করি, এই মুহূর্তে আপনি যদি সামান্যতম আতঙ্কিত না হন তবে আপনি আসলে এআইয়ের অগ্রগতির দিকে ঠিকমতো খেয়ালই করছেন না।”
অতিথি সম্পাদক হিসেবে বিবিসির এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি পরিচালনার সময় এমন মন্তব্য করেছেন এআই স্টার্টআপ ‘ডিপমাইন্ড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাপ্লায়েড এআইয়ের সাবেক প্রধান সুলেইমান।
এআই ব্যবস্থার আরও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী’ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ‘অকল্পনীয় দ্রুতগতিতে’ এআইয়ের অগ্রগতি হবে।
“বর্তমানে এআই খাতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এমন এক পৃথিবী কল্পনা করছেন, এমনকি তারা মনেপ্রাণে এমন এক পৃথিবী চাইছেন, যেখানে মেশিন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে… এবং সব ধরনের কাজে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
“এ ধরনের ব্যবস্থা প্রায় নিশ্চিতভাবেই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আমাদের অবশ্যই এমন মানবতাবাদী সুপার ইন্টেলিজেন্সের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, যা সবসময় মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
“আমরা যদি এআইকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তবে এই প্রযুক্তি আমাদের পক্ষে থাকবে না। মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে এআই আমাদের কোণঠাসা করে ফেলবে।”
বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভয় দানা বাঁধছে, এআই হয়ত তাদের চাকরি কেড়ে নেবে, বিশেষ করে ‘হোয়াইট কলার’ বা দাপ্তরিক পেশাজীবীদের জায়গা এআই দখল করে নিতে পারে বলে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। আর এ সময়ই সুলেইমানের এমন সতর্কতা এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ বছরের শুরুর দিকে মাইক্রোসফট এআইয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কোন ধরনের চাকরি এআই অটোমেশনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ গবেষণায় নিজেদের জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট ‘কোপাইলট’-এর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের দুই লাখ কথোপকথন বিশ্লেষণ করেছে কোম্পানিটি, যেখানে দেখা গেছে, কোন কাজগুলোর সঙ্গে এআইয়ের সক্ষমতার সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ইন্টারপ্রেটার বা দোভাষী ও অনুবাদকদের কাজগুলো নিয়মিতভাবে এআই টুল দিয়ে করা হচ্ছে। এর পরেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ইতিহাসবিদ, গণিতবিদ ও প্রুফ রিডারদের কাজ।
এআইয়ের সক্ষমতা সম্পর্কে সুলেইমান বলেছেন, “আমি মনে করি মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এসব প্রযুক্তি মূলত মানুষের শ্রম বা কর্মশক্তিকে প্রতিস্থাপন করে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি।
“এআই এখন অপারেটিং সিস্টেম ও স্প্রেডশিট ব্যবহার করতে পারে, ইমেইল পাঠাতে পারে এবং ফোন কলও করতে পারে। এআইয়ের এসব কাজ অনেকটা একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার, পরিকল্পনাকারী, এইচআর বা মার্কেটিং কর্মকর্তার মতো। এসব সক্ষমতা আসলে বেশ অনুমানযোগ্য ও সহজেই স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করা সম্ভব।
“এআইয়ের ফলে এসব কাজের ক্ষেত্রে বিশাল সক্ষমতা ও গতি আসবে। কারণ একজন দাপ্তরিক বা বুদ্ধিভিত্তিক কর্মীর মতো কাজ করা এখন অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।”
কল সেন্টার কর্মীদের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সুলেইমান বলেছেন, তাদের জায়গা এরইমধ্যে এআই দখল করতে শুরু করেছে। প্যারালিগ্যাল বা আইনজীবীর সহকারী, জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও সাধারণ প্রজেক্ট ম্যানেজারদের মতো বিভিন্ন পদও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্ভবত একই পরিণতির দিকে যাবে।