Published : 09 Jul 2026, 12:44 PM
প্রায় আট বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ না দিলে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ জানান, রায়ের পর আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ঘটনার প্রায় ১২ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে শাহানুর আক্তারের বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন জাহাঙ্গীর। তিনি নিয়মিত নেশা করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হত।
২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে তারা রাতের খাবার শেষে ঘুমাতে যান।
পরদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পায়, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। সে তার ভাইকে ডাকে। পরে দুইজন দরজা খুলে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়।
জাহাঙ্গীরকে সে সময় বাড়িতে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন ২০ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার এসআই মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জুন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এরপর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামির বিচার শুরু হয়। ৬ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক জাহাঙ্গীরকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।