Published : 28 Oct 2025, 06:02 PM
এ সপ্তাহ থেকে বড় পরিসরে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।
করোনা মহামারীর সময় দ্রুততার সঙ্গে অনেক কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল সিয়াটলভিত্তিক এ প্রযুক্তি কোম্পানিটি। অ্যামাজন এখন ওই বাড়তি সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
এর আগে, অ্যামাজন সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, কোম্পানির কিছু কাজ মানব কর্মীর কাছ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের হাতে চলে যাবে। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন কিছু মানব কর্মী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে, হিউম্যান রিসোর্সেস, অপারেশন্স, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস ও অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা এডব্লিউএস।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবা দাতা এডব্লিউএস, যার দেওয়া বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে রয়েছে– স্টোরেজ, ডেটাবেইস, মেশিন লার্নিং ও সিকিউরিটি টুলস।
কর্মী ছাঁটাই বিষয়ে এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলেছে, করোনা মহামারীর সময় অনলাইন শপিং বেড়ে যাওয়ার কারণে অ্যামাজন অনেক কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল। এখন খরচ কমাতে সেই অতিরিক্ত নিয়োগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি।
অ্যামাজনের প্রত্যাশিত এ ছাঁটাই কোম্পানির প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে, অর্থাৎ ৩০ হাজারের কর্মী এই ছাঁটাইয়ের ফলে চাকরি হারাতে পারেন।
অ্যামাজনের মোট কর্মী সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি, যার অধিকাংশই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গুদামে কাজ করেন।
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিভাগের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে অ্যামাজন, যার মধ্যে রয়েছে, ডিভাইস, কমিউনিকেশনস ও পডকাস্টিং বিভাগ। কোম্পানিটির জন্য ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়, এর আগেও বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে তারা।
গত মাসে যুক্তরাজ্যে সব ধরনের ‘অ্যামাজন ফ্রেশ’ গ্রোসারি স্টোর বন্ধের পরিকল্পনা জানিয়েছে কোম্পানিটি। এর ফলে প্রায় আড়াইশ জন কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যামাজন।