Published : 21 Jan 2026, 03:58 PM
বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে কাজের ধরন বদলে যাওয়া নিয়ে প্রবীণদের তুলনায় জেনজি কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বলে উঠে এসেছে বিশ্বের অন্যতম বড় নিয়োগকারী এক সংস্থার প্রতিবেদনে।
রানস্ট্যাড-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে চারজনই মনে করেন, এআই তাদের প্রতিদিনের কজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত জেনারেশন জেড বা জেনজি। কারণ, বিভিন্ন কোম্পানি দিন দিন এআই চ্যাটবট ও অটোমেশনের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নিজেদের বার্ষিক ‘ওয়ার্কমনিটর’ প্রতিবেদনে রানস্ট্যাড লিখেছে, যেসব চাকরিতে ‘এআই এজেন্ট’ সংক্রান্ত দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলোর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮৭ শতাংশ বেড়েছে। সহজ ও গৎবাঁধা বিভিন্ন কাজ এখন মানুষের বদলে এআই ও অটোমেশনের মাধ্যমে করা হচ্ছে।
৩৫টি দেশের ২৭ হাজার কর্মী এবং ১ হাজার ২২৫ জন নিয়োগকর্তার ওপর জরিপটি চালিয়েছে রানস্ট্যাড। তারা প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্বের শ্রমবাজার। বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বড় বড় কোম্পানি। কারণ সাধারণ মানুষের কেনাকাটার মানসিকতা বা আত্মবিশ্বাস কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও কঠোর পররাষ্ট্রনীতির ফলে বিশ্বজুড়ে নিয়মভিত্তিক যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছিল তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
পাশাপাশি, এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন মানুষের বদলে অটোমেশনের মাধ্যমে কাজ করছে। অধিকাংশ কোম্পানি এআই খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ থেকে এখনও সরাসরি খুব বড় কোনো মুনাফা না পেলেও এই বিনিয়োগ আগামী বছরগুলোতে ব্যবসার ধরন পুরোপুরি বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য
রানস্ট্যাড-এর প্রধান নির্বাহী স্যান্ডার ভ্যান’টি নোর্ডেন্ডে বলেছেন, “আমরা কর্মীদের মধ্যে এআই নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখতে পাচ্ছি… তবে তাদের মনে কিছুটা সংশয়ও আছে। তারা মনে করেন, বিভিন্ন কোম্পানি সবসময় যা চায় এখনও তা-ই চাচ্ছে, অর্থাৎ খরচ কমানো ও কাজের সক্ষমতা বাড়ানো।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জেনজি এআই নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। অন্যদিকে, বেবি বুমাররা বা প্রবীণরা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এআইয়ের প্রভাব ও এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে কম।”
পরিসংখ্যানের তথ্যে যা পাওয়া গেছে
জরিপের তথ্য অনুসারে, প্রায় অর্ধেক কর্মীই মনে করেন, এ নতুন প্রযুক্তি সাধারণ কর্মীদের তুলনায় বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকেই বেশি লাভবান করবে।
এ ছাড়া, ব্যবসার উন্নতি বা পারফরম্যান্স নিয়ে নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পার্থক্য রয়েছে। যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা এ বছর ব্যবসার প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী, সেখানে এ আশাবাদের সঙ্গে একমত হতে পেরেছেন কেবল ৫১ শতাংশ কর্মী।