১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ভিডিও বদলের কথা স্বীকার ইউটিউবের

সমালোচনার মুখে ইউটিউব অবশেষে বলছে, তারা এ পরিবর্তনের জন্য শিগগিরই একটি অপ্ট-আউট সুবিধা চালু করবে।

মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ভিডিও বদলের কথা স্বীকার ইউটিউবের
বিআটো’র ক্ষোভ তার কাজ অনুমতি ছাড়া বদলে দেওয়া হয়েছে। ছবি: ইউটিউব

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2025, 05:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:12 PM

ক্রিয়েটরদের অনুমতি ছাড়াই তাদের শর্টস ভিডিওতে প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন আনার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইউটিউব। কোম্পানিটি এ পরিবর্তনকে ভিডিওর মান উন্নত করার একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

বিষয়টি প্রথম নজরে আসে সঙ্গীতশিল্পী ও ইউটিউবার রিক বিআটো’র মাধ্যমে। তিনি লক্ষ্য করেন, পার্ল জ্যাম গিটারিস্ট মাইক ম্যাকক্রেডির সঙ্গে তার এক সাক্ষাৎকারের শর্টস ক্লিপ অস্বাভাবিক লাগছে, যেন কোনো ফিল্টারের ব্যবহার করা হয়েছে। 

পরে তিনি এ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয় এবং আরও অনেক ক্রিয়েটর তাদের ভিডিওতেও একই ধরনের পরিবর্তনের অভিযোগ তুলতে থাকেন।

যদিও অনেকে দাবি করেন ইউটিউব এআই ব্যবহার করেছে তবে কোম্পানিটি জোর দিয়ে বলছে, এটি কেবল ‘মেশিন লার্নিং’। প্রযুক্তি যা-ই হোক ইউটিউবারদের প্রধান ক্ষোভ তাদের কাজ অনুমতি ছাড়া বদলে দেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার মুখে ইউটিউব অবশেষে বলছে, তারা এ পরিবর্তনের জন্য শিগগিরই একটি অপ্ট-আউট সুবিধা চালু করবে। বিষয়টি এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউটিউব ক্রিয়েটর লিয়াজঁ রেনে রিচি।

এআই ভিশনস

ইউটিউবের যুক্তি, শর্টস যেহেতু মোবাইলের জন্য বানানো তাই খুব দ্রুত স্ক্রল হয় আর অনেক সময় ভিডিওর মান একরকম থাকে না। একটু বাড়তি ‘পলিশিং’ করলে ভিডিওগুলো আরও পরিষ্কার দেখাবে এবং দেখার অভিজ্ঞতাও ভালো লাগবে।

কিন্তু ক্রিয়েটরদের কাছে বিষয়টি ভিন্ন। যাদের নামে ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই পরিবর্তন তাদের সৃজনশীল মালিকানাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে যখন এআই-নির্ভর জালিয়াতি দর্শকদের চোখে আরও বেশি সন্দেহ তৈরি করছে।

এ ধরনের ঘটনার নজির আরও আছে যেমন নেটফ্লিক্সের ‘এইচডি রিমাস্টার’ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। এতে এআই ব্যবহার করে তৈরি দৃশ্যগুলোতে বিকৃত মুখ, অস্বাভাবিক ব্যাকগ্রাউন্ড এমনকি এআই দিয়ে তৈরি পোস্টারও দেখা গিয়েছিল।

প্রযুক্তি সাইট টেক রেডার প্রতিবেদনে লিখেছে, ইউটিউবের পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের কনটেন্টের ওপর তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই কিন্তু ইউটিউব সম্পূর্ণভাবে ক্রিয়েটর-নির্ভর। যদি প্ল্যাটফর্ম নিজে থেকেই ক্রিয়েটরদের প্রকাশিত ভিডিওতে পরিবর্তন আনে তাহলে বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেটা যত ভালো উদ্দেশ্যেই হোক না কেন।

অবশেষে ইউটিউব অপ্ট-আউট সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও তা এসেছে ব্যবহারকারীদের চাপের পর। প্ল্যাটফর্মগুলো যদি ব্যবহারকারী ও ক্রিয়েটরদের আস্থা ধরে রাখতে চায় তবে তাদের আরও স্বচ্ছ হতে হবে তা এআই হোক বা এমন মেশিন লার্নিং যা এআই-এর মতোই দেখায়।