Published : 20 Dec 2025, 05:13 PM
গুগল-সমর্থিত পারমাণবিক ফিউশন এনার্জি কোম্পানি টিএই টেকনোলজিস-এর সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এর মালিকানাধীন কোম্পানি ট্রাম্প মিডিয়া।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।
তবে এই একীভূত হওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়িক মহলে বেশ বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ, একই ধরনের ব্যবসার মধ্যে সাধারণত একীভূতকরণ হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানির সঙ্গে জ্বালানি খাতের কোম্পানির কোনো মিল নেই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
চুক্তির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দুই কোম্পানি মিলে বিশ্বের প্রথম ‘ইউটিলিটি-স্কেল ফিউশন পাওয়ার প্ল্যান্ট’ বা বাণিজ্যিক পর্যায়ের পারমাণবিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবে। বিষয়টি সত্য হলে তা হবে বড় এক ঘটনা। কারণ বর্তমানে বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কোনো পারমাণবিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই।
টিএই টেকনোলজিস নামের জ্বালানি কোম্পানিটি ১৯৯০-এর দশক থেকে কাজ করছে এবং গুগল, শেভরন ও অন্যান্য বড় কোম্পানির সুনজরেও এসেছে। আর ট্রাম্প মিডিয়া মূলত সামাজিক মাধ্যমে মানুষের ঝগড়াঝাঁটি বা গালিগালাজ নিয়ে ‘কাজ’ করে। কোনো রিঅ্যাক্টর যদি মানুষের গালি বা ঝগড়া থেকে শক্তি তৈরি করতে পারত তবে এই কাজে ‘যোগ্য’ সঙ্গী হত ট্রাম্প মিডিয়া।
একীভূতকরণের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টিএই টেকনোলজিসকে ‘বিপুল পরিমাণ মূলধনের যোগান’ দেবে ট্রাম্প মিডিয়া। গত প্রান্তিকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার লোকসান করেছে ট্রাম্পের কোম্পানিটি। ট্রুথ সোশাল মূলত ট্রাম্প একাই চালান। ফলে সেখান থেকে খুব বেশি অর্থ আয় সম্ভব নয়।
ব্যক্তিগত পছন্দের প্রজেক্টের জন্য তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নিজেই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তি। এক রুম ভর্তি বিলিয়নেয়ারদের কীভাবে মানিব্যাগ খোলাতে, প্রচুর প্রশংসা আদায় করতে ও সোনার মূর্তিও হাতিয়ে নিতে হয় তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন।
চুক্তির শর্ত অনুসারে, ট্রাম্প মিডিয়া বোনাস হিসেবে টিএই টেকনোলজিসকে ৩০ কোটি ডলার মূলধন দেবে। তবে এ অর্থ কোথা থেকে আসবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ, এ অর্থ ট্রাম্পের কোম্পানির পুরো বাজার মূল্যের ১০ শতাংশেরও বেশি।
এটি পুরোপুরিভাবে শেয়ার-ভিত্তিক এক চুক্তি এবং শেয়ার বাজার কখনোই বিলিয়নেয়ারদের কারসাজির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। এ কারণে চুক্তি ঘোষণার পরই ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
কোম্পানিতে থাকা নিজের পার্টনারশিপ ‘রিভোকএবল’ ট্রাস্টে স্থানান্তর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যার একমাত্র সুবিধাভোগী তিনি নিজে ও তার ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র।
রিভোকএবল ট্রাস্ট এমন এক আইনি ব্যবস্থা, যেখানে নিজের সম্পদের মালিকানা সরাসরি নিজের নামে না রেখে ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন ট্রাম্প, যাতে প্রয়োজনে তিনি এর শর্ত পরিবর্তন করতে পারেন। ফলে সরাসরি দায়িত্বে না থেকেও এর পুরো লাভ ভোগ করতে পারবেন তিনি।
বড় পরিসরে পারমাণবিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি এক দুঃসাহসিক কাজ, যার কৌশল এখনও ভালোভাবে রপ্ত করা যায়নি।
টিএই টেকনোলজিস-এর সিইও মিশেল বাইন্ডারবাওয়ার বলেছেন, নতুন গঠিত এই কোম্পানি ‘পাঁচ বছরের’ মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করবে। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ সময়সীমা ‘৩০ বছর’ হওয়া উচিত।
পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিতে সূর্যের মতো শক্তি উৎপন্নের চেষ্টা করা হয়, যা অত্যন্ত জটিল কাজ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ কাজ সফল করতে আরও অন্তত ৩০ বছর লাগবে। সেখানে এই কোম্পানি কেবল পাঁচ বছরে তা করে ফেলার দাবিটি অবিশ্বাস্য।