Published : 20 Apr 2024, 01:39 PM
চীনা সরকারের আদেশ মানতে চীনে নিজস্ব অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস অ্যাপ সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল।
এ নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে চীনের জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছে চীনা সরকার।
তবে, ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জার’সহ মেটার অন্যান্য অ্যাপ বহাল তবিয়তেই আছে বলে নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।
এ ছাড়া, পশ্চিমা কোম্পানির তৈরি ইউটিউব ও এক্স-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোও ডাউনলোড করা যাচ্ছে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ বা থ্রেডসের মতো অ্যাপগুলো কী কারণে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
“সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ চায়না (সিএসি)’ জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে অ্যাপগুলোকে চীনের অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে,” রয়টার্সকে পাঠানো ইমেইল বিবৃতিতে বলেছে অ্যাপল।
“আমরা যেসব দেশে কাজ করি, সেইসব দেশের আইন মানতে বাধ্য আমরা। এমনকি তাদের সঙ্গে একমত না হলেও,” উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্সকে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেটা, এর বদলে তারা অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। এমনকি সিএসি’র কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি।
অ্যাপল বলেছে, অন্যান্য অ্যাপ স্টোরে অবশ্য এখনও হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস ডাউনলোড করা যাচ্ছে। এ ছাড়া, চীনের প্রযুক্তিপ্রেমী গ্রাহকরা অন্যান্য দেশের অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপগুলো ডাউনলোড করতে পারবেন, তবে এ ক্ষেত্রে সেই দেশে তার একটি আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
চীনা প্রযুক্তি শিল্পের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সরকারি আদেশটির যোগসূত্র থাকতে পারে গত বছরের অগাস্টে জারি করা নতুন এক নিয়মের সঙ্গে, যেখানে চীনে কার্যক্রম চালানো সকল অ্যাপকে সরকারিভাবে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এমনটি না করলে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকবে।
বিভিন্ন কোম্পানির জন্য এ নিবন্ধন সম্পন্ন করার শেষ সময় ছিল ১ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত। এর পর থেকেই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হয়ে যায়।
এর আগেও নিজস্ব অ্যাপ স্টোরের চীনা অংশ থেকে বেশ কিছু অ্যাপ সরিয়েছে অ্যাপল।
২০১৭ সালে স্থানীয় নীতিমালা লঙ্ঘনকে কারণ দেখিয়ে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ অ্যাপটি সরিয়েছিল অ্যাপল, যে পদক্ষেপটি এসেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে সংবাদ প্রচারে সেন্সরশিপ শুরু হওয়ার পর। আর এখনও অ্যাপলের চীনা অংশের অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে না অ্যাপটি।
এদিকে, গত বছর বেইজিং জেনারেটিভ এআই পরিষেবা নিয়ে স্থানীয় নীতিমালা তৈরি করার সময় চ্যাটজিপিটি’র মতো বেশ কিছু অ্যাপ সরিয়েছিল অ্যাপল।
হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসে নিষেধাজ্ঞার ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন করেছিল মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।