Published : 23 Jun 2026, 10:06 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত প্রসারের মুখে বড় ধরনের কর্মী সংকটে পড়েছে লন্ডনের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি দুই হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী নেতার ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, এআইয়ের এ যুগে লন্ডনের অর্ধেক ব্যবসায়ীই মনে করেন তাদের কোম্পানির প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা বর্তমান কর্মীদের নেই।
‘বিজনেসএলডিএন’-এর পক্ষে এ জরিপটি পরিচালনা করেছে ‘সারভেশন’ নামের এক কোম্পানি, যেখানে উঠে এসেছে, কেবল ৫০ শতাংশ কোম্পানি বিশ্বাস করে তাদের বর্তমান কর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে, যা গেল বছরের ৬৩ শতাংশের তুলনায় বেশ কম।
অন্যদিকে, দক্ষতা ও যোগ্যতার ঘাটতিতে থাকা কোম্পানির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে, যা গত বছরে ছিল কেবল চার শতাংশ। বার্ষিক জরিপের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ ঘাটতি রেকর্ড।
লন্ডনজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার যেভাবে ক্রমাগত বাড়ছে তার মধ্যেই এমন দক্ষ কর্মী অভাবের চিত্রটি সামনে এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
জরিপে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর তিন-চতুর্থাংশই বলেছে, তারা এরইমধ্যে কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছে। বিপরীতে, কেবল পাঁচ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
যেসব কোম্পানি এরইমধ্যে এআই ব্যবহার করছে তাদের ৮৫ শতাংশ বলেছে, এ প্রযুক্তির আগমন তাদের কর্মীদের কাজের ধরনের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় বড় বদল এনেছে।
জরিপ অনুসারে, ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বর্তমানে কর্মীদের মধ্যে ‘যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, নৈতিক বিচারবুদ্ধি ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার’ প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন খাতের দুই হাজার ৪৩ জন ব্যবসায়ী নেতার ওপর চালানো এ জরিপ থেকে আরও জানা গেছে–
● ৩৫ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, তাদের কর্মীদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে।
● আরও ১২ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, তারা এআই চালুর পরিকল্পনা করছে এবং আট শতাংশ কোম্পানি এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করে দেখছে।
● দক্ষতায় ঘাটতি থাকা কোম্পানিগুলোর ৬০ শতাংশেরই উন্নত ডিজিটাল দক্ষতার অভাব রয়েছে, যেখানে ২৩ শতাংশ কোম্পানি সাধারণ ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতির কথা বলেছে।
● ৭৮ শতাংশ কোম্পানির ধারণা, আগামী দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের উন্নত ডিজিটাল দক্ষতার ‘জরুরী প্রয়োজন’ পড়বে, যা গত বছর ৬৬ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৫৬ শতাংশ ছিল।
● ১৩ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ খাতে তাদের বিনিয়োগ অপরিবর্তিত থাকবে এবং পাঁচ শতাংশ কোম্পানি এ খরচ কমার আশঙ্কা করছে।
● ১৭ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, তাদের কোনো পদ খালি বা শূন্য নেই।
● কর্মী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ২০ শতাংশ কোম্পানি। তবে ৭৬ শতাংশ কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো আশঙ্কা করছে না।
● কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করা বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে ২৫ শতাংশ কোম্পানি কারণ হিসাবে খরচ কমানোর কথা বলেছে।
● ২৪ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, এআইয়ের কারণে শুরুর দিকের বা এন্ট্রি-লেভেলের কর্মীদের চাহিদা কমেছে এবং ২৩ শতাংশ কোম্পানি মধ্য-পর্যায়ের কর্মীদের চাহিদা কমে যাওয়ার কথা বলেছে।
● ১৪ শতাংশ কোম্পানি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বা ব্যবসায়িক মডেলের পরিবর্তনকে দায়ী করেছে।
‘বিজনেসএলডিএন’-এর ‘পিপল অ্যান্ড স্কিলস’ বিষয়ক পলিসি ডেলিভারি পরিচালক মার্ক হিলটন বলেছেন, “লন্ডনের ব্যবসায়িক কোম্পানিগুলো এআইকে আপন করে নিলেও প্রযুক্তির এ দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের দক্ষতার চাহিদা পূরণ করা অনেকের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“ইতিবাচক দিক হচ্ছে, নিয়োগকর্তারা প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়িয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তবে দক্ষতার এ ঘাটতি পুরোপুরি দূর করতে আমাদের এমন চটপটে ও নমনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা এ দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে।”
জরিপে দেখা গেছে, রেকর্ড সংখ্যক ৮১ শতাংশ কোম্পানি আগামী বছরে কর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা আগের জরিপে ছিল ৮০ শতাংশ ও ২০২৩ সালে ছিল ৬৯ শতাংশ।
একই সময়ে, ৮৩ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, বর্তমানে তাদের কর্মী নিয়োগের পদ খালি রয়েছে। তবে, শূন্যপদ পূরণে বেগ পেতে হচ্ছে এমন কোম্পানির হার কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে, যা গত বছরের ৪৬ শতাংশের চেয়ে কম ও বার্ষিক জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
জরিপটি ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের এক তথ্য প্রকাশের পরই এ জরিপের ফল সামনে এল, যেখানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের মধ্যে লন্ডনেই আঞ্চলিক বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি।