০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআইয়ের জেরে ওরাকলে চাকরি হারালেন ২১ হাজার কর্মী

প্রযুক্তি কোম্পানির সবচেয়ে বড় খরচ সাধারণত কর্মী পরিচালনাতেই হয়ে থাকে। এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বহু কোম্পানি তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে।

এআইয়ের জেরে ওরাকলে চাকরি হারালেন ২১ হাজার কর্মী
এ ছাঁটাইয়ের আকার ওরাকলের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2026, 03:16 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দিকে ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকল।

এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগের অংশ হিসেবে গেল এক বছরে বিশ্বজুড়ে নিজেদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ বা ২১ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কোম্পানিটি।

প্রযুক্তি খাতের এ রূপান্তর যেমন মোটা অংকের খরচের দুয়ার খুলেছে তেমনই এর প্রভাব পড়ছে হাজারো কর্মীর কর্মসংস্থানে, ওরাকলের এমন পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

সফটওয়্যার ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা কোম্পানিটি বলেছে, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত তাদের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার, যা গত বছরের ঠিক এই সময়ের ১ লাখ ৬২ হাজারের তুলনায় বেশ কম।

বার্ষিক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করে ওরাকল বলেছে, “আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কর্মী সংখ্যা কমেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।”

এ ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ওরাকলের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ। বর্তমানে এআই অবকাঠামো, যেমন ডেটা সেন্টার তৈরিতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করার যে জোয়ার এসেছে, প্রযুক্তি খাতের এ কর্মী ছাঁটাই তারই অংশ।

একইভাবে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের লক্ষ্যে অ্যামাজন ও ফেইসবুকের মূল কোম্পানি মেটাও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।

কর্মসংস্থান ট্র্যাকিং সংগঠনগুলোর হিসাব অনুসারে, গত এক বছরে পুরো প্রযুক্তি খাত থেকে ১ লাখেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

অনলাইনে ওরাকলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এপ্রিলেই কোম্পানিটি বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই করেছিল। তবে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত এ ছাঁটাইয়ের প্রকৃত চিত্রটি সামনে আসেনি।

কোম্পানিটি বলেছে, এ কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে গত এক বছরে তাদের ‘সেভারেন্স পেমেন্ট’ বা চাকরিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পুনর্গঠন বাবদ প্রায় ১৮০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এ অংকটি আগের অর্থবছরের পুনর্গঠন ব্যয় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তুলনায় বেশি।

ওরাকল বলেছে, তাদের এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি ‘ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে’। পুনর্গঠনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু পদে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে; যার কারণে উৎপাদনশীলতা কমে কোম্পানির আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে আরও বিবিসির মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেয়নি ওরাকল।

বর্তমানে ওপেনএআই ও মেটা’র মতো এআই জায়ান্টদের জন্য ডেটা সেন্টার তৈরিতে ওরাকল তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

এ বছরে অবকাঠামো খাতের পেছনে অন্তত ৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ওরাকল। বিশ্বসেরা ধনকুবেরদের অন্যতম ল্যারি এলিসন এ প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে ওরাকলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির সবচেয়ে বড় খরচ সাধারণত কর্মী পরিচালনাতেই হয়ে থাকে। ফলে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বহু কোম্পানি তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে।

গুগল, অ্যারামাজন ও মেটা যৌথভাবে এ বছরে এই প্রযুক্তির পেছনে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ডলার ঢালার পরিকল্পনা করেছে।

এর মধ্যে অ্যামাজন বলেছে, আগামী বছর এআই বিনিয়োগের পেছনে তারা ২ হাজার কোটি ডলার খরচ করার পরিকল্পনা করছে, যা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বজুড়ে ১৫ লাখেরও বেশি কর্মী থাকা এ ই-কমার্স ও প্রযুক্তি জায়ান্টটি আরও বলেছে, তারা বেশ কয়েকটি ধাপে আরও প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে।