Published : 02 Jan 2026, 04:00 PM
গুগল সার্চে এআইয়ের তৈরি এই সারাংশ বা প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তরটি ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাবে বলে দাবি করেছে সার্চ জায়ান্টটি। তবে সিস্টেমটির বিরুদ্ধে বারবার ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
২০১৯ সালের শুরুতে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে পাঠকদের সতর্ক করে বলেছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ভুয়া খবর লিখতে শিখে গেছে। সেই নিবন্ধে নজরে আসা অন্যতম টুল ছিল ‘জিপিটি-২’, যা বর্তমানের যুগান্তকারী প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটিরই পূর্বসূরী।
এখন সরাসরি গুগল সার্চ অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এআই। বর্তমানে গুগল সার্চে কিছু খুঁজলে পেইজের একেবারে উপরে একটি ‘এআই ওভারভিউ’ দেখা যায়।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটও ‘কনটেন্ট মিল’-এর মতো পাইকারি হারে এআই দিয়ে নিবন্ধ তৈরি করে এ সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
তবে আশার কথা, গুগলের কাছে এর একটি সমাধান রয়েছে। গুগলের সেই সমাধানটির নাম ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’।
২০২৫ সালের অগাস্টে চালু হওয়া নতুন এই ফিচার ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে তথ্য খোঁজার জন্য পছন্দের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ‘প্রেফার্ড সোর্সেস’ সেট আপ করবেন–
১. গুগল সার্চে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়টি লিখে সার্চ করুন।
২. সার্চ রেজাল্ট বা ফলাফল আসার পর যতক্ষণ না আপনি ‘টপ স্টোরিজ’ সেকশনটি দেখতে পাচ্ছেন ততক্ষণ নিচের দিকে স্ক্রল করুন। ওই লেখাটির পাশেই ‘স্টার’-এর মতো একটি আইকন দেখতে পাবেন। সেটিতে ক্লিক বা ট্যাপ করুন।
৩. এরপর একটি পপ-আপ উইন্ডো আসবে। সেখানে নিজের পছন্দের সংবাদ মাধ্যম বা ওয়েবসাইটের নাম লিখুন। পছন্দের নামগুলো তালিকায় যোগ হয়ে গেলে ‘রিলোড রেজাল্টস’ বাটনে ক্লিক করুন।
ব্যাস! এর পরের বার যখন কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজবেন গুগল তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পছন্দের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যকে সবার আগে দেখাবে।
কেন সঠিক তথ্যসূত্র গুরুত্বপূর্ণ?
গত কয়েক বছরে ডিজিটাল বিভিন্ন টুলে এআইয়ের দ্রুত সংযোজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও আচরণে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তবে এর সবকটিই যে ইতিবাচক ফল দিয়েছে, তেমন নয়।
গুগলের ‘এআই ওভারভিউ’ সুপরিচিত ‘হ্যালুসিনেশন’ সমস্যায় জর্জরিত। সহজ কথায়, অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বা কাল্পনিক তথ্য দেয় এআই ওভারভিউ। এর মধ্যে ভাষার সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝার সক্ষমতা ও যৌক্তিক বিচারবুদ্ধিরও অভাব রয়েছে।
এসব সীমাবদ্ধতার কারণেই বিভিন্ন এআই মডেল সংবাদকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন করে চলেছে। কেবল কয়েক সপ্তাহ আগেই ফোনের ‘ডিসকভার’ নিউজ ফিডে এআই নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ‘ক্লিকবেইট’ শিরোনাম লক্ষ্য করেছে প্রযুক্তি সাইট ভার্জ।
‘ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন’ বা ইবিইউ ও বিবিসি পরিচালিত যৌথ এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ভাষা বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে বিভিন্ন এআই মডেল ‘নিয়মিতভাবে সংবাদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে’। তাদের বিশ্লেষণ বলছে, এ ভুলের হার ৪৫ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পাঠকরাও এ ব্যাপারে বেশ সন্দিহান। ৪৭টি দেশে পরিচালিত ‘রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ জার্নালিজম’-এর তদন্তে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ এআই দিয়ে তৈরি সংবাদ পড়ার বিষয়ে বেশ অস্বস্তিবোধ করেন, বিশেষ করে রাজনীতির মতো বিষয়গুলোতে।
পয়েন্টার-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকানই চান না এআই তাদের কাছে সংবাদ পরিবেশন করুক। এরপরও ভারতসহ বিশ্বের বড় বড় বাজারগুলোতে সংবাদ পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে এআই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও রয়টার্স ইনস্টিটিউটের এক যৌথ সমীক্ষা বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এআই ব্যবহারের হার দ্বিগুণ হয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা বজায় রেখে এআই ব্যবহার করলেও অনেকেই এআই ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ করে না।
দিনশেষে নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে বের করা ও পড়ার দায়িত্বটি এখন পাঠকের ওপরই বর্তায়। ঠিক এখানেই আসে গুগলের ‘প্রেফার্ড সোর্স’ ফিচার, যা ব্যবহারকারীকে নিজেদের বিশ্বস্ত উৎস বেছে নেওয়ার সুযোগ এবং এআইয়ের তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হওয়া থেকে ঠেকাতে পারে।