Published : 05 Oct 2025, 03:42 PM
ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইল বা ফোল্ডার জিপ এবং আনজিপ করা বেশ সহজ একটি কাজ। অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমে বিল্ট-ইনভাবে এমন একটি টুল রয়েছে যা কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
আর্কাইভ ইউটিলিটি নামে এই টুলটি আলাদা কোনো অ্যাপ নয় বরং ম্যাক-এর ‘ফাইন্ডার’ অ্যাপের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত একটি ফিচার। চাইলে বাড়তি সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যায় থার্ড পার্টি অ্যাপও।
ম্যাক-এ ফাইল কমপ্রেস করার পদ্ধতি অনেক সহজ। প্রথমে ‘ফাইন্ডার’ অ্যাপ খুলে সেই ফাইল বা ফোল্ডারগুলো খুঁজে বের করতে হবে যেগুলো কমপ্রেস করতে চান। একাধিক ফাইল একসঙ্গে বেছে নিতে চাইলে ‘কমান্ড’ বাটন চেপে ধরে সেগুলো নির্বাচন করা যায়। এরপর নির্বাচিত ফাইলগুলোর ওপর রাইট-ক্লিক করে ‘কমপ্রেস’ অপশনটি বেছে নিলেই কাজ শেষ। একাধিক ফাইল নির্বাচন করলে কমপ্রেস অপশনের পাশে ফাইলের সংখ্যা দেখাবে।
কমপ্রেস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একই ফোল্ডারে একটি নতুন ফাইল তৈরি হবে। যদি একক কোনো ফাইল বা ফোল্ডার কমপ্রেস করা হয় তবে সেই নামের সঙ্গে ‘ডট জিপ’ যুক্ত হয়ে নতুন ফাইল তৈরি হবে। আর যদি একাধিক ফাইল একসঙ্গে কমপ্রেস করা হয় তবে নতুন ফাইলের নাম হবে ‘আর্কাইভ ডট জিপ’। চাইলে এটি পরে নিজের মতো নাম বদলে নেওয়া যায়, যাতে পরে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। তৈরি হওয়া জিপ ফাইলটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া বা ইমেইলেও পাঠানো যায়।
ফাইল আনজিপ করার প্রক্রিয়াও ঠিক এমনই সহজ। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা হোক বা নিজের তৈরি কোনো জিপ ফাইলই হোক ‘ফাইন্ডার’ অ্যাপে গিয়ে সেই ফাইলের ওপর ডাবল-ক্লিক করলেই তা খুলে যাবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফাইল বা ফোল্ডার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
যদি একক কোনো ফাইল হয় তবে আগের নামেই ফাইলটি পাওয়া যাবে, আর যদি ফোল্ডার বা একাধিক ফাইল থাকে তবে সেগুলো নতুন একটি ফোল্ডারে খুলে যাবে। এর নাম আগের আর্কাইভের মতোই হবে।
প্রযুক্তি সাইট ‘ হাও টু গিক’ লিখেছে, যদিও ‘আর্কাইভ ইউটিলিটি’র কোনো দৃশ্যমান ইন্টারফেইস নেই তবুও এর কিছু সেটিং পরিবর্তন করা সম্ভব। এজন্য কমান্ড + স্পেস চাপ দিয়ে ‘স্পটলাইট’ খুলে ‘আর্কাইভ ইউটিলিটি’ সার্চ করতে হয়। অ্যাপটি খোলার পর উপরের মেনুবার থেকে আর্কাইভ ইউটিলিটি > প্রেফারেন্সেন নির্বাচন করে পরিবর্তন আনা যায়। এখান থেকে নির্ধারণ করা যায় কমপ্রেস ও আনকমপ্রেস ফাইল কোথায় সেইভ হবে এবং চাইলে আনজিপ শেষ হলে পুরনো আর্কাইভ ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাশে পাঠানোর সুবিধাও চালু করা যায়।
তবে যারা আরও বেশি ফিচার চান বা আরএআর, সেভেনজেড, টার+ ইত্যাদি ফরম্যাট আনজিপ করতে চান তাদের জন্য আনআর্কাইভার নামের একটি থার্ড পার্টি বিকল্প অ্যাপ রয়েছে।
সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এই ইউটিলিটি অ্যাপটি এক ডজনেরও বেশি জনপ্রিয় ও বিরল আর্কাইভ ফরম্যাট সাপোর্ট করে। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতো করে আনজিপ ফোল্ডারের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারেন, আনজিপ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোল্ডার খুলে দেওয়ার অপশন চালু করতে পারেন, এমনকি কাজ শেষে পুরনো আর্কাইভ ফাইল ট্র্যাশে পাঠাতেও পারেন।
সব মিলিয়ে ম্যাক ব্যবহারকারীরা এখন খুব সহজেই বিল্ট-ইন ‘আর্কাউভ ইউটিলিটি’ বা থার্ড পার্টির ‘আনআর্কাইভার’ ব্যবহার করে ফাইল কমপ্রেস ও আনজিপ করতে পারবেন, কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই। অফিসের কাজ, বড় আকারের প্রজেক্ট ফাইল শেয়ার করা বা ইমেইলে বড় ডকুমেন্ট পাঠানোর ক্ষেত্রেও এই ফিচার দারুণভাবে সহায়ক হবে।