Published : 14 Jul 2026, 02:25 PM
গত কয়েক দশকের মাঠের নানা নাটকীয় ঘটনা নিয়ে আলোচনা তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের আগে সমর্থকদের কেবল ফুটবলেই মনোযোগ দিতে বলেছে আর্জেন্টিনার প্রবীণ যোদ্ধাদের একটি সংগঠন। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সার্বভৌমত্বের দাবি প্রতিষ্ঠার মঞ্চ হিসেবে ম্যাচটিকে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
আটলান্টায় আগামী ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের আগে ঘুরে ফিরে আসছে চার দশকের বেশি পুরনো ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে এখানে সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। সেই সময় থেকে আজও দুই দেশের মধ্যে ওই প্রসঙ্গ খুব সংবেদনশীল।
‘এপ্রিল টু ওয়ার ভেটেরানস ফেডারেশন’ নামের সংস্থাটি সোমবার বিবৃতিতে বলেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসছে ম্যাচটি আর্জেন্টাইনদের জন্য কোনো ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়।’ একই সঙ্গে তারা কোনো ধরনের ঘৃণা বা উগ্র জাতীয়তাবাদ না ছড়িয়ে, যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমর্থক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
“সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয় আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনীতির মাধ্যমে, ঐতিহাসিক সত্যের ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় সংবিধানে সুরক্ষিত শান্তিপূর্ণ ও আপসহীন দাবির মধ্য দিয়ে। খেলাধুলার আবেগ আর জাতীয় স্বার্থের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও অনড় সীমারেখা টানা জরুরি বলে আমরা মনে করি। বল মাঠে গড়াবে, আমাদের জার্সির গর্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, তবে (যুদ্ধের) স্মৃতিও অক্ষুণ্ন থাকবে।”
ফকল্যান্ডের উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করা যুক্তরাজ্য এখনও সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অন্য দিকে কূটনৈতিক মাধ্যম ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে আর্জেন্টিনা।
টুর্নামেন্ট চলার সময়েও এই প্রসঙ্গ এসেছে। আর্জেন্টিনার জয়ের পর দর্শকরা গানে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ, মারাদোনা ও আরেকটি বিশ্বকাপ দিয়ে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার কথা বলেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, আটলান্টায় দুই দলের লড়াইয়ে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় জড়িত থাকবে না।
ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই সুরে কথা বলেছেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইকে ‘ফুটবলের স্রেফ আরেকটি ম্যাচ’ হিসেবে দেখছেন তারা।
“এটা দুই গর্বিত জাতির লড়াই। মাঠে ফুটবলই কথা বলবে।”
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ ঐতিহাসিক এক দ্বৈরথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুই দল। যার মধ্যে অন্যতম, ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি হয়েছিল। আরেকটি হলো, ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের একমাত্র গোল ব্যবধান গড়ে দেয়। আর্জেন্টিনার দাবি ওই গোল ছিল অফসাইড, তাদের কাছে ইংল্যান্ডের ওই জয় ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি।’