Published : 01 May 2026, 08:03 PM
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোনো লেখাই ডনাল্ড ট্রাম্প পড়েননি, এটা হলফ করেই বলে দেওয়া যায়। তার পরও, তার সেই বিখ্যাত ছড়ার বাণী মার্কিন প্রেসিডেন্টের বচন আকারে বেরোলো কী করে?
ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু চন্দ্রাভিযান মিশনের নভোচারীদের হোয়াইট হাউসে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে, এইটুকু করেই যে তিনি থেমে থাকার পাত্র নন, সেটা যারা তাকে বিলক্ষণ চেনেন, তাদের অনুমানে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
বুধবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নভোচারীদের সাহসের প্রশংসা করার পাশাপাশি ট্রাম্প বলেছেন, নভোচারী হওয়া তার জন্য কোনো কঠিন কাজ ছিলই না। রসিকতার ছলে এর কারণটিও বলে দিয়েছেন তিনি, শারীরিকভাবে তিনি খুবই ফিট কিনা!
এর জবাবে, নভোচারীরা, হ্যাঁ, তা বটেই তো বটেই তো, বলেছেন কি না, সেটি অবশ্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে লেখেনি।
অনুষ্ঠানে মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি ও যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী হলেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন। উদযাপনমূলক বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে তারা ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা এ মানুষদের জন্য খুব গর্বিত। তাদের বিস্ময়কর সাহস আছে, আরও অনেক অবিশ্বাস্য গুণও আছে।”
তবে কথাটি বলার পরপরই নিজের প্রশংসা করতে শুরু করেন ট্রাম্প।
“সেখানে (নভোচারী হিসেবে) যেতে হলে আপনাকে অনেক বুদ্ধিমান হতে হবে ও শারীরিকভাবে অনেক দক্ষ হতে হবে। আমার সেখানে জায়গা পেতে কোনো সমস্যাই হত না, কারণ শারীরিকভাবে আমি খুবই ফিট। হয়ত সামান্য সমস্যা হতে পারত, চেষ্টা করলে আমরা সেটা বুঝতে পারব।”
এ মাসের শুরুতে মিশন চলাকালীন এ ক্রু সদস্যরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙেছেন। তারা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
১০ এপ্রিল স্যান ডিয়েগো উপকূলে আর্টেমিস টু মিশনের সমাপ্তি ঘটে। ১০ দিনের চন্দ্রাভিযান শেষে ‘ইন্টিগ্রিটি’ নামের ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে নিখুঁতভাবে স্প্ল্যাশডাউন করে।
এর আগে, নাসাকে এ সফল মিশনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ তিনি লিখেছিলেন, এ ‘চমৎকার ও মেধাবী’ ক্রু সদস্যদের জন্য তিনি গর্বিত।
তবে সেই সময় ট্রাম্প এ মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করার ইচ্ছার কথা মোটেও উল্লেখ করেননি। পরে, এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প নাসার বাজেট ২৩ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান উদ্যোগের জন্য বরাদ্দ ৪৬ শতাংশ বাজেট কমানোর কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা খুব বেশিক্ষণ নভোচারী বা তাদের সাফল্য নিয়ে চলেনি। দ্রুতই আলোচনার মোড় ঘুরে যায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তের দিকে, যা ‘ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট’ বা ভোটাধিকার আইনের বড় এক অংশকে অকার্যকর করে দিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাংবাদিক প্রশ্ন করার আগ পর্যন্ত তিনি এ রায় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। যখন অন্য একজন সাংবাদিক নিশ্চিত করে বলেন যে, রায়টি ‘রিপাবলিকানদের জন্য বড় জয়’ তখন প্রেসিডেন্ট আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ব্যবধানে এক দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট’ বা ভোটাধিকার আইনের ২ নম্বর ধারাটিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।
সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে এলাকা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায্য বিচার পান তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘকাল ধরে এই ২ নম্বর ধারাটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
ধারাটি ছিল ১৯৬৫ সালের নাগরিক অধিকার আইনের সর্বশেষ শক্তিশালী বিধান, যা ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্য ঠেকাত।
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি বিষয়টি পছন্দ করেছি, এমনটা খুবই ভালো। আমরা এ সংবাদ সম্মেলন এখনই শেষ করতে পারি। কারণ, আমি রায়টি পড়তে চাই।”