১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কোল্ডপ্লের আনকোরা গান চুরি করেই তরুণী ভেবেছিলেন কেল্লা ফতে!

শিল্পীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এসব গান চুরি করেছেন ডালজিয়েল।

কোল্ডপ্লের আনকোরা গান চুরি করেই তরুণী ভেবেছিলেন কেল্লা ফতে!
ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jan 2025, 05:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:17 AM

সম্প্রতি কোল্ডপ্লে, কানাডিয়ান গায়ক শন মেন্ডেস ও মার্কিন গায়িকা বেইব রেক্সা’সহ অন্যান্য শিল্পীদের অপ্রকাশিত গান চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এক সাইবার হ্যাকার।

এ বিষয়ে ‘সিটি অফ লন্ডন’ পুলিশ বলেছে, অনলাইনে অপ্রকাশিত গান বিক্রি করে প্রায় ৪২ হাজার পাউন্ড পকেটে পুরেছেন হ্যাকার স্কাইলার ডালজিয়েল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রিচার্ড পার্টরিজ বলেছেন, তিনি ‘স্বার্থপরের মতো অন্যের গান ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে নিজের জন্য অর্থ আয় করেছেন’।

‘লুটন ক্রাউন কোর্টে’ কপিরাইট আইনের অধীনে ১১টি অপরাধ স্বীকার করেছেন ইংল্যান্ডের লুটন শহরের উইনচেস্টার গার্ডেনের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী। তাকে ২১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে সে সাজা ২৪ মাস বা দুই বছরের জন্য স্থগিতও করেছেন বিচারক।

পুলিশের ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ক্রাইম ইউনিট’-এর ডেট কন ড্যারিল ফ্রায়াট বলেছেন, “নিজের আর্থিক লাভের জন্য কপিরাইটওয়ালা কনটেন্ট চুরি অবৈধ। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ে শিল্পীদের কাজ ও গান তৈরি এবং প্রকাশের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করা মানুষদের জীবিকা।”

ডালজিয়েল শিল্পীদের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এসব গান চুরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

এ চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ‘সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট’ যখন বুঝতে পারে ‘উপসাহল’-এর মালিকানাধীন একটি ক্লাউড অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে তখন। বিষয়টি ২০২১ সালের জুনে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্য ফোনোগ্রাফিক ইন্ডাস্ট্রি বা আইএফপিআই’কে জানায় কোম্পানিটি।

পুলিশ বলেছে, এখান থেকে চল্লিশটি অপ্রকাশিত গান বেহাত হয়েছে এবং তা অনলাইনে বিক্রি করেছে হ্যাকার।

বিভিন্ন শিল্পীর অপ্রকাশিত গান বিক্রি করে এমন একটি অ্যাকাউন্টকে চিহ্নিত করেছে আইএফপিআই ও ‘আমেরিকার রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’। সেই অ্যাকাউন্টের গোড়া খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ডালজিয়েলের নাম।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ডালজিয়েলকে গ্রেপ্তার করেন তারা। সে সময় তার কাছ থেকে তিনটি ড্রাইভ জব্দ করেন, যার মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৪১টি মিউজিক ট্র্যাক।

ডালজিয়েলের কাছ থেকে একটি স্প্রেডশিটও খুঁজে পায় পুলিশ। যেখানে পাওয়া গেছে তিনি কার কাছে কয়টি গান কত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেছেন। এর পাশাপাশি তার পেপ্যাল ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও দেখা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চুরি করা এসব গান বিক্রির ফলে ৪২ হাজার ৪৯ পাউন্ড পেয়েছেন তিনি।

এ অর্থের কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছে। ‘সিটি অফ লন্ডন’ পুলিশ বলেছে, এসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন’-এর সঙ্গে কাজ করছেন তারা।

কপিরাইট মালিকের লাইসেন্স ছাড়া গান বিক্রি ও অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন/ব্যবহার/দখল’সহ তিনটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডালজিয়েল। এজন্য ১৮০ ঘণ্টা বিনা বেতনে কাজ করার জন্যও শাস্তি মিলেছে তার।

ফ্রায়াট বলেছেন, “এই সাজা একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও কাজের জন্য তাদের জবাবদিহি করার ক্ষমতা ও টুল আমাদের কাছে রয়েছে।”