Published : 22 Sep 2025, 03:19 PM
বৈজ্ঞানিক গবেষণার সারাংশকে খুব সহজ করে বোঝাতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা ঠিক নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘আমাকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মতো সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলো’, এ ধরনের বাক্য বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে এআই কত সহজভাবে বিভিন্ন জটিল বিষয় বোঝাতে পারে তার উল্লেখ থাকে। এটি শিক্ষা খাতে এআই ব্যবহারের খুব জনপ্রিয় এক উদাহরণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ডিজিটাল ট্রেন্ডস।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা আর পেপার সারসংক্ষেপের জন্য চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা উচিত নয়।
পুরো পরিস্থিতির সামগ্রিক ধারণাটি কী?
বিভিন্ন গবেষণাপত্রে সাধারণত অনেক প্রযুক্তিগত শব্দ ও জটিল ভাষা থাকে, যার কারণে সাধারণ মানুষ সেখানে থাকা নতুন আবিষ্কার বা অগ্রগতি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। ঠিক এখানেই বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন এমন সাংবাদিকদের কথা আসে। সবার বোঝার সুবিধার্থে সেসব বড় গবেষণা বিষয়কে সহজ ভাষায় সংক্ষিপ্তভাবে লিখে প্রকাশ করেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণার সারসংক্ষেপ করতে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার ভালো উপায় নয়। এজন্য এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি প্লাস নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এর প্রেস অফিস ও ‘সায়েন্স প্রেস প্যাকেজ টিম’ বা সাইপ্যাক, যেখানে চ্যাটবটটি কতটা সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে পারে তা খতিয়ে দেখেছেন তারা।
এক বছর ধরে পরীক্ষার পর গবেষণা দলটি বলছে, চ্যাটজিপিটির মাধ্যম তৈরি গবেষণার সারাংশ ‘অনেক সময় ভাষা সহজ করতে গিয়ে সঠিক তথ্য দেয় না’ এবং ‘কথা অতিরঞ্জিত করে লেখার জন্য অনেকটা এডিট করে’। যেমন– ‘চ্যাটজিপিটি প্লাস ‘গ্রাউন্ড ব্রেকিং’ শব্দদ্বয় ব্যবহার করতে খুব বেশি পছন্দ করে, যা সব জায়গায় খাটে না’।
মজার বিষয় হচ্ছে, কিছু শব্দ অতিরিক্ত ব্যবহার করে এআই, যা এখন মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তাতেও প্রভাব ফেলছে।
মূল বার্তাটি কী?
পরীক্ষার অংশ হিসেবে চ্যাটজিপিটির পেইড ভার্সন ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে দুটি গবেষণাপত্রের তিনটি করে ভিন্ন সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে গবেষণা দলটি। এরপর লেখকরা সেসব সারাংশ মূল্যায়ন করেন। চ্যাটজিপিটি পুরোপুরি ব্যর্থ না হলেও বিজ্ঞান গবেষণা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিভিন্ন দিক বোঝাতে খারাপ ফলাফল করেছে এটি।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “গবেষণার ফলাফল সাধারণ পাঠকের জন্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না চ্যাটজিপিটি।” চ্যাটবটটি অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, গবেষণার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং একই প্রসঙ্গে দুটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই গড়মিল করে ফেলে।
গবেষকরা বলেছেন, চ্যাটজিপিটির সারসংক্ষেপ পাঠকের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
প্রেস প্যাকেজ লেখক ও ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স’ বা এএএএস-এর সদস্য অ্যাবিগেইল আইজেনস্টাড লিখেছেন, “গবেষণাটি বড় ও জটিলতায় ভরপুর হলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত জটিল শব্দ বা টার্মের আশ্রয় নেয় চ্যাটজিপিটি।”