Published : 21 Jun 2026, 09:43 PM
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি-এপিইউবি।
প্রস্তাবিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ওই কর অব্যাহত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার এপিইউবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেট প্রণয়নের আগেই সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছিল। তখন এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া গেলেও বাজেট প্রস্তাবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির উপকরণ ক্রয় এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয় বলে এপিইউবির ভাষ্য।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ শতাংশ আয়কর বহাল থাকলে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে, যা উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। সে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আয়কর আরোপ বা বহাল রাখা অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে এপিইউবির দাবি।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত রাখার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সে কথাও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এপিইউবি বলছে, সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হলেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ‘পরিলক্ষিত হয়নি’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ওপর আরোপিত করও বহাল রয়েছে।
“দেশে বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরি।”