Published : 26 Jun 2026, 12:09 AM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ‘আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মেলায়’।
সোমবার সিন্ডিকেট সভায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনা অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদনে তাশরিক-ই-হাবিবের বিষয়ে বলা হয়, তিনি তিনজন এমফিল গবেষকের কাছ থেকে গবেষণার সিনোপসিস কম্পোজের জন্য টাইপিস্টের পারিশ্রমিক বাবদ ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা নেন। এক পিএইচডি গবেষকের কাছে তত্ত্বাবধায়কের পারিশ্রমিক বাবদ অর্থও দাবি করেন।
এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অগাস্টে বাংলা বিভাগের পিএইচডি গবেষক সুশান্ত কুমার সরকার এবং এমফিল গবেষক মো. আব্বাস আলী, রওশন জাহান মৌসুমী ও নুসরাত জাহান শুচি ‘অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগ তোলেন।
সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ২৬ অগাস্ট উপাচার্য একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের জন্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে প্রয়োজনীয় ফরমে স্বাক্ষরের অনুরোধ করলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট চার গবেষকের গবেষণাকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে এবং তারা এ অ্যাকাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ অবস্থায় ওই গবেষকদের নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের সুপারিশ করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। একইসঙ্গে তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।
তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মোবাইল ফোন কল দিলে তিনি ধরেননি। বাংলা বিভাগে তার কক্ষে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে মঙ্গলবার অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “উনার (তাশরিক-ই-হাবিব) বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করেছেন। আমরা সেটা প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যাপক তাশরিক-ই হাবিবের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও ধরেননি। বৃহস্পতিবার তার বিভাগে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে সিন্ডিকেট।”
গত কয়েক মাস ধরে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তিনি শাহ আব্দুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান গেয়ে ফেসবুকে অনেকের নজরে আসেন।
অনেক শ্রোতা তার গান শেয়ার করে প্রশংসা করেন। তবে ‘ভিন্নধর্মী সুরে’ গান পরিবেশনের কারণে অনেকে আবার তাকে নিয়ে ট্রলও করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যেও তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।