Published : 25 Jun 2026, 11:09 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়েশা সিদ্দিকা হলের ‘সি’ ব্লকে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার পর ৩৬ শিক্ষার্থীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রকৌশলীদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক সোবহান তানজিম আতিক।
তিনি বলেন, হলের ‘সি’ ব্লকের বিভিন্ন স্থানে ২০২২ সাল থেকে ফাটল ছিল। সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর ফাটলগুলোর মাত্রা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে একই হলের রিডিং রুম ও অতিথি কক্ষে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, “সি ব্লকের ফাটলগুলো আগে থেকেই ছিল। এখন এগুলো আগে থেকে বেড়ে গেছে। তাই প্রশাসন হয়তো মেয়েদের সরিয়ে নিচ্ছে।
“শুনেছি সি ব্লকের নিচে আগে একটি পুকুর ছিল। সেই জায়গায় ভবন নির্মাণের কারণে মাটির নিচে ভবন দেবে যাওয়ায় দেয়াল ও বিমের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।”

সহযোগী অধ্যাপক সোবহান তানজিম আতিক বলেন, “হলটির বয়স প্রায় ৩৩ বছর। সি ব্লকের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা বেশি রিস্ক জোনে আছে। প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, বর্তমান অবস্থায় সেখানে শিক্ষার্থীদের রাখা নিরাপদ হবে না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে রিডিং রুম ও অতিথি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেছি।”
“বুধবার উপাচার্য ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা হল পরিদর্শন করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়ায় আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না”, বলেন তিনি।
সহকারী প্রাধ্যক্ষ বলেন, তিন মাস আগেও সি ব্লকের নিচতলার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষ খালি করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে পুরো সি ব্লক থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এর জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার করা হলেও ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রাধ্যক্ষদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”