Published : 31 Aug 2025, 02:50 PM
১৭০৭ সালের পর থেকে আর অগ্ন্যুৎপাত হয়নি মাউন্ট ফুজিতে। আগ্নেয়গিরি দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন জাপানি কর্মকর্তারা, যেখানে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা গেছে সক্রিয় এই আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য অগ্ন্যুৎপাত কতটা ধংসাত্মক হতে পারে।
সিমুলেশনে উঠে এসেছে, মাউন্ট ফুজিতে যদি হঠাৎ করে আবার শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত হয় তবে তা দেখতে কেমন হবে ও এতে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে। মানুষকে আগাম সতর্ক করতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কল্পিত এই চিত্র বা সিমুলেশন দেখাচ্ছেন জাপানি কর্মকর্তারা।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত সিমুলেশনের এসব ভিডিও দেখানোর উদ্দেশ্য হল, টোকিও মেট্রোপলিটন ও আশপাশের এলাকায় যে তিন কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাস করেন তাদের যেন আগ্নেয়গিরির মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কী করতে হবে তার জন্য প্রস্তুত করা যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।
টোকিও মেট্রোপলিটন প্রশাসনের ভিডিওতে সতর্ক করা হয়েছে, ‘যে কোনও মুহূর্তে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই’ ঘটতে পারে মাউন্ট ফুজির অগ্ন্যুৎপাত।
ভিডিওতে দেখা গেছে, অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগ্নেয়গিরির ছাই প্রায় একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে করে পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে যাবে, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
“আমাদের কেবল ভয় পাওয়াই যথেষ্ট নয়, আমাদের সত্যিকারের তথ্য জানতে হবে ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে,”-- এমন বার্তা দিয়ে শেষ হয় ভিডিওটি।
ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, একটি পরিবার তাদের খাবারের ঘরে শুকনো খাবার ও একটি ফার্স্ট-এইড কিট বা প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স মজুদ করে রেখেছে।
এক বিবৃতিতে টোকিও কর্তৃপক্ষ বলেছে, বর্তমানে মাউন্ট ফুজির অগ্ন্যুৎপাতের কোনো লক্ষণ নেই। তবে ‘এ সিমুলেশনটি তৈরি করা হয়েছে যেন বাসিন্দারা জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান ও প্রস্তুতির বিভিন্ন উপায় জানতে ও তা অনুসরণ করতে পারেন।”
এদিকে, সিমুলেশনের এসব ভিডিও টোকিওর কিছু বাসিন্দার মধ্যে দুশ্চিন্তা ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
তবে টোকিও মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ ও জাপানের মন্ত্রিপরিষদের দুর্যোগ প্রতিরোধ বিভাগের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত টোকিওর বাসিন্দাদের কাছ থেকে এসব ভিডিও নিয়ে কোনো অভিযোগ পাননি তারা।
‘ইউনিভার্সিটি অফ টোকিও’র অধ্যাপক ও ঝুঁকি যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নাওয়া সেকিয়া বলেছেন, সরকার অনেক বছর ধরেই আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের বিভিন্ন পরিস্থিতির মডেল তৈরি করে আসছে।
তিনি আরও বলেছেন, এর মানে এই নয় যে মাউন্ট ফুজিতে এখনই অগ্ন্যুৎপাত হতে চলেছে।
“ভিডিওটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তৈরি বা পরিকল্পিত নয়।”
এবিসি নিউজ লিখেছে, নিজেদের জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতি খুবই সংবেদনশীল জাপান। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, মাটির ধস ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের জন্য আগাম পরিকল্পনা করে থাকে দেশটি।
গত অগাস্টে প্রথমবারের মতো ‘মেগাকোয়েক অ্যাডভাইসরি’ বা বড় ধরনের ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছিল ‘জাপান মেটেরিওলজিক্যাল এজেন্সি’। ওই সময় কিউশু দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
বিশ্বের প্রায় দেড় হাজারটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একশ ১১টিই জাপানে রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত দেশটি।
ফুজি জাপানের সবচেয়ে উঁচু পর্বত, আগে প্রায় প্রতি ৩০ বছর পর পর অগ্ন্যুৎপাত হত। তবে ১৮শতকের পর থেকে একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছে আগ্নেয়গিরিটি।