Published : 20 Jun 2026, 03:43 PM
টিকে থাকতে একটি গোল প্রয়োজন ছিল, শত চেষ্টাতেও সেই গোলের দেখা পেল না তুরস্ক। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে এসে অভিযান শেষ হয়ে গেল দুই ম্যাচেই! মনে কষ্ট আর চোখ জল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন আর্দা গিলের, হাকান চালহানোলুরা।
চোখ ভরা স্বপ্ন, মনে অনেক আশা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল তুরস্ক। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সঙ্গে ছিল এক ঝাঁক তরুণ প্রতিভা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পর প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও হেরে গেল তারা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিগেল আলমিরনের লাল কার্ডে অনেকটা সময় এক জন বেশি নিয়ে খেলে তুরস্ক। তবুও শুরুতে হজম করা গোল ৩২ শটেও শোধ করতে পারেনি তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে গোলের জন্য ৩০ শট নিয়েছিল তুরস্ক। সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ এবং নিজেদের বাজে ফিনিশিংয়ে ভুগেছিল তারা।
১৯৬৬ আসর থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো দল দুই ম্যাচে ৬২ শট করেও কোনো গোল পেতে ব্যর্থ হলো।
মাতিয়াস গালারসার গোলে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। বাকি সময়ে সুযোগ হাতছাড়ার মহড়ায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তুরস্ক।
৩৫তম মিনিটে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে ফেরে! গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি ওই সময়েই গিয়েছিল তুরস্ক। এর বাইরে বারিস ইলমাজ, চান উজুন, মেরিথ দেমিরাল খুব ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন।
তুরস্ক ফুটবলের মুখ হয়ে ওঠা ২১ বছর বয়সী আর্দা গিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন।
“আমরা খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সফল হইনি। তবে আমাদের কিছু গোল করা উচিত ছিল। আমাদের এই ম্যাচগুলো জেতা উচিত ছিল… সবাই ব্যথিত, সবাই কাঁদছে।”
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত বীরত্বপূর্ণ অভিযানের পর বিশ্বকাপে তুরস্কের এই ব্যর্থতা অভাবনীয়। ধারণা করা হয়েছিল সোনালী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এই আসর দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের ছাপ ফেলবেন।
এর পরিবর্তে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলার সময় ভক্তদের প্রতিক্রিয়া সামলাতে হবে তুরস্কের। ওই ম্যাচের দুই দলের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। এরই মধ্যে শীর্ষে থাকা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ফল যাই হোক তুরস্ক থাকছে চারেই।