Published : 20 Jun 2026, 04:30 PM
রাজধানীর মিরপুরের মুসলিম বাজার খাল থেকে ‘৪৫০ ট্রাক’ বর্জ্য অপসারণের তথ্য তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার মুসলিম বাজার খালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “কয়েক মিটার খাল থেকে আমাদের ৪৫০ ট্রাক ময়লা অপসারণ করা হয়েছে।
“কালশী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৮০ ফুট খাল থেকেও ইতোমধ্যে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।”
মুসলিম বাজার খালে গত ১৩ দিন ধরে ময়লা অপসারণের কাজ চলার কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মুসলিম বাজার খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫০ মিটার।
“প্রতিমন্ত্রী স্যার যখন দুপুর দেড়টার দিকে পরিদর্শনে আসেন, তখন পর্যন্ত ৪৬১ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। পরে আরও ৩২ ট্রাক বর্জ্য সরানো হয়েছে।”
আর একদিনে সাংবাদিক আবাসিক এলাকার খাল থেকে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করার কথাও বলেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।
বর্জ্য অপসারণের কাজ ঘুরে দেখার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে অনেক খাল ও জলাশয় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুসলিম বাজার খাল পরিদর্শনের আগে তিনি হাতিরঝিলে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।
মীর শাহে আলম বলেন, “হাতিরঝিল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর অবস্থা এমন হয়েছে যে মানুষের বিনোদনের জন্য সেখানে যাওয়ার পরিবেশ নেই। আমরা অচিরেই হাতিরঝিলকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করব। সেখানে লাইটিং, বসার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।”
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫৬টি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে ছোট-বড় সব খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খালগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সীমানা নির্ধারণে দুটি কমিটি গঠন করার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬টি খাল সংরক্ষণ ও সচল রাখা না গেলে ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু অনেকেই আবার খালে ময়লা ফেলছেন। বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে বর্জ্য ফেললে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। এরপরও কেউ খাল বা খালের পাশে ময়লা ফেললে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।”
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জরিমানার মুখোমুখি না হয়ে সবাই যেন প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একই রাস্তা বারবার খনন এড়াতে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা হয়েছে। কোনো বড় মেরামত, অবকাঠামো উন্নয়ন বা রাস্তা সংস্কারকাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উত্তর সিটির প্রশাসক বলেন, “ভবিষ্যতে যাতে একই রাস্তা বারবার খনন করতে না হয় এবং উন্নয়ন কাজগুলো সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”