Published : 14 Oct 2025, 11:07 AM
আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত ছোট্ট এক দেশ। আয়তন সাকল্যে ৪ হাজার বর্গকিলোমিটারের একটু বেশি। ২০২২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে অপরিচিত দেশটিই এবার বিশ্বকাপের বিস্ময়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি।
আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে বেশি আটবার বিশ্বকাপে খেলা ক্যামেরুনের গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল কেপ ভার্দ। তাদের চমক কিংবা কৃতিত্ব তাই আরও বেশি।
গত মাসে ক্যামেরুনকে হারানোর পরই বিশ্বকাপে খেলা অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলে ‘ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত দলটি। তবে বুধবার লিবিয়ায় ৩-৩ গোলে ড্র করায় অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। একদিক থেকে তা খারাপ হয়নি। বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটি যে নিজেদের মাঠেই!
ঐতিহাসিক উপলক্ষ উপভোগের জন্য দেশটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল সোমবার। দেশবাসীকে হতাশ করেনি তাদের দল। এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা উল্লাসে মেতে ওঠে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো ১৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যায় দেশটির দ্বীপ থেকে দ্বীপে।
প্রথমার্ধ যদিও গোলশূন্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে সব উৎকণ্ঠা দূর করে দেয় কেপ ভার্দ। ৪৮তম মিনিটে জটলা থেকে গোল করেন দালিয়ন লিভ্রামেন্তো, ছয় মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান উইলি সেমেদো।
শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার স্টোপিরা। ২০০৮ সাল থেকে যিনি খেলছেন জাতীয় দলের হয়ে। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোল করে উৎসবকে পূর্ণতা দেন ৩৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট তাদের। একই দিনে অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে ড্র করা ক্যামেরুনের পয়েন্ট ১০ ম্যাচে ১৯।
আফ্রিকা থেকে এবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ষষ্ঠ দেশ কেপ ভার্দ। আগামী বছরের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে এর আগে মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর, আলজেরিয়া ও ঘানা।
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপ খেলা দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হতে যাচ্ছে কেপ ভার্দ। ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলা আইসল্যান্ড এখানে সবার ওপরে।
এমনিতে কেপ ভার্দ নামে পরিচিত হলেও ১৯৭৫ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দেশটির অফিসিয়াল পর্তুগীজ নাম কাবো ভের্জে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান এখন ৭০তম। ১৯৮৬ সালে ফিফার সদস্য হওয়ার পর ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথমবার খেলে দেশটি।
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স-এ প্রথমবার অংশ নেয় তারা মাত্র ১২ বছর আগে। ২০১৩ সালে সেই আসরেই চমক দেখায় কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে। সবশেষ ২০২৩ আসরেও তারা খেলেছে শেষ আটে। এবার পেল নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্য।
ফুটবলের পথচলায় দ্রুতগতিতে ছুটে গেছে তারা ফুটবল ফেডারেশনের কিছু উদ্যোগের কারণে। যার মধ্যে একটি ছিল দেশের বাইরের বিভিন্ন লিগে খেলা কেপ ভার্দ বংশোদ্ভুত ফুটবলারদের খুঁজে বের করে তাদেরকে জাতীয় দলে জায়গা করে দেওয়া। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া স্কোয়াডের যেমন ছয় ফুটবলারের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। এছাড়া পর্তুগাল, ইতালি, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফুটবলারও আছে। দলের বেশির ভাগই খেলে থাকেন ইউরোপের নানা ক্লাবে।
সঠিক পরিকল্পনার পথ ধরে এখন তারা পৌঁছে গেল স্বপ্নের মঞ্চে।