Published : 18 Jun 2026, 09:13 PM
সারাদেশে প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে ছেলে এবং মেয়েদের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত থেকে ছোটদের ফুটবল উপভোগ করবেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের খেলার মাধ্যমে গত ৬ এপ্রিল শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। বিভিন্ন স্থানের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে।
বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টুর্নামেন্টে। উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হয় গত ২৩ মে। চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ে আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ৮টি বালক ও ৮টি বালিকা দল অংশ নেয়।
চূড়ান্ত পর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালিকা) শাখায় ময়মনসিংহের নান্দাইলে অবস্থিত আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের মুখোমুখি হবে পাবনার সাথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল।
বালক শাখায় ময়মনসিংহের দড়িরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের মুখোমুখি হবে বরিশালের বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল।
মাহ্দী আমিন বলেন, “২০ জুন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। আমাদের শিশুরা যখন দেখবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার কারণে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই তারা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হবে। আমাদের লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থী যেন পরবর্তী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেয়।”
১২ হাজার দলের অংশগ্রহণে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট’ এবং ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতাও চলছে বলে তুলে ধরেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী, দুই জন শিক্ষক, অর্থাৎ ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী ১২ হাজার শিক্ষক এই উদ্যোগে যুক্ত আছেন। তাদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোক্তামূলক চিন্তাভাবনা কী রয়েছে? খুব ভালো বৈজ্ঞানিক কী ধরনের চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আমরা কমার্শিয়ালাইজ করার চিন্তা করছি।”
ভালো উদ্যোগে সরকারি অর্থায়ন করার চিন্তাও আছে বলে তুলে ধরেন তিনি। আগামী ২৯ জুন বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুটি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী গত আড়াই মাস ধরে ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের ধাপ অতিক্রম করার পর মেয়েদের দুটি দল এবং ছেলেদের দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। যারা চ্যাম্পিয়ন হবে এরপর আমরা প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামনে ফিফার মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। আমাদের এই সন্তানরা যারা এই গোল্ড কাপগুলো জিতবে তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড় হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
২০১০ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ফূটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম বছর শুধু ছেলেদের খেলা আয়োজিত হলেও ২০১১ সাল থেকে ছেলে ও মেয়েদের টুর্নামেন্ট আয়োজিত হচ্ছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ছেলেদের টুর্নামেন্টের নামকরণ করেছিল ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ও মেয়েদের টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
মাঝখানে কোভিড-১৯ মহামারিতে ২০২০ ও ২১ সালে এই দুই টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলেও অন্যান্য বছরগুলোতে নিয়মিত এই খেলা আয়োজিত হয়েছে।