উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 27 May 2026, 09:14 PM
এমনিতেই মারিয়া মান্দা হাসিখুশি ঘরানার। এ দিন যখন মালদ্বীপ ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে এলেন, তার হাসিটা চওড়া হলো আরও। হওয়াটাও স্বাভাবিক। কেননা, উইমেন’স এশিয়ান কাপে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হবে তার। নতুন পথচলা শুরুর রোমাঞ্চ নিয়ে এই মিডফিল্ডার বললেন, দেশের মানুষকে ঈদে জয় উপহার দিতে চান।
চাওয়া পূরণের লক্ষে বৃহস্পতিবার ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচ সামনে রেখে স্টেডিয়ামের লাগোয়া ডন বস্কো গ্রাউন্ডে বুধবার বিকালে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি সেরেছে দল।
এ মুহূর্তে দেশের মানুষ ব্যস্ত ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিতে। কিন্তু মারিয়া-মনিকা-আফঈদাদের সে সুযোগ নেই। গোয়াতে তারা নোঙর ফেলেছেন দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের হ্যাটট্রিক মুকুট জয়ের পাহাড় সমান চাপ নিয়ে। অধিনায়ক হিসেবে মারিয়া সে চাপ অনুভব করছেন আরও বেশি। কিন্তু তার চোখে-মুখে নেই সে ছাপ! সব প্রশ্নের উত্তরও তিনি দিয়ে গেলেন হাসি মুখে!
“অনুভূতিটা (অধিনায়ক হিসেবে শুরুর) তো অবশ্যই ভালো। যেহেতু কাল থেকে আবার নতুন করে সাফ শুরু, তো আসলে ভালো ফল দিয়ে শুরু করতে চাই। যেহেতু আমাদের প্রথম ম্যাচ মালদ্বীপের বিপক্ষে, আমরা সবাই ফিট আছি। আমাদের প্রয়োজন প্রথমে পয়েন্ট নিতে হবে। তো আমরা সবাই প্রস্তুত, ভালোভাবে খেলার চেষ্টা করব।”
“অবশ্যই (দেশবাসীকে ঈদ উপহার দিতে চাই), আমরা ভালো কিছু করলেই সেটা দেশকে ভালো কিছু দেওয়া হয়। তো আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আমরা ভালো খেলব, ভালো খেলা উপহার দেব এবং ভালো একটা ফল দেব (দেশবাসীকে)।”
ভালো ফলের সঙ্গে গোল ব্যবধানের হিসাব মেলাতে চাইলেন না মারিয়া। মালদ্বীপকে ভারত ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ায় গ্রুপ সেরা হওয়ার ক্ষেত্রে গোল ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে, বাংলাদেশ অধিনায়ক মালদ্বীপ ম্যাচে নিশ্চিত করতে চান পয়েন্ট। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের ম্যাচ নিয়ে আপাতত ভাবছেন না ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
“প্রথম ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে পয়েন্ট পাওয়া। আমাদের পয়েন্ট নিতে হবে, তো আসলে গোল (কতগুলো পাব) ম্যাচের উপর নির্ভর করে। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।”
“সর্ব প্রথমে বলি, যেহেতু আমাদের ভারত ম্যাচ দ্বিতীয়… মানে পরে হবে, তো আসলে আগে আমাদের লক্ষ্য হলো প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়ে এখন আপাতত আমরা চিন্তা করছি না। আমাদের পয়েন্টের প্রয়োজন, প্রথম ম্যাচটাই আমরা ভালোভাবে খেলতে চাই।”
এবারের সাফে অংশ নেওয়া ছয় দলের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ও ভারতের অভিজ্ঞতা হয়েছে উইমেন’স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার আসরে কোনো দলই অবশ্য দেখাতে পারেনি কোনো চমক। তবে, এশিয়ার মঞ্চ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মঞ্চে এসে অন্যদের তুলনায় নিজেদের ‘বড়’ মনে করতে চান না মারিয়া। মালদ্বীপের বিপক্ষে নিজেদের অজেয় অতীত নিয়েও ভাবছেন না তিনি।
“সর্বপ্রথমে বলি, প্রত্যেকটা ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলে সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। ভারত তো আমাদের সাথেও এশিয়ান কাপ খেলেছে। আমরা জানি, ওরা ভালো দল, আর প্রত্যেকটা দলই কিন্তু খুব ভালো। প্রত্যেকটা ম্যাচই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লড়াই হবে। তো আসলে আমরা চাই আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচ যেন ভালো করতে পারি।”
গত দুই সাফে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে মাঝমাঠে মনিকা চাকমার সাথে মারিয়ার জুটির ছিল দারুণ ভূমিকা। অনুশীলনে গোঁড়ালিতে হালকা চোট পাওয়ায় মালদ্বীপ ম্যাচ মনিকার খেলা হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। তবে মৌমিতা খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাসদের নিয়ে মাঝমাঠ দখলের গুরুত্বপূর্ণ কাজটুকু করতে চান মারিয়া।
“মিডফিল্ড থেকে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তো সবসময় ভালো একটা ফল হয় বা খেলা খুব সুন্দর হয়। তো আমরা চেষ্টা করব যে, (অতীতে) প্রত্যেকটা ম্যাচগুলো যেভাবে আমরা খেলে এসেছি, সেভাবে ভালো খেলার এবং এর থেকে আরও বেশি ভালো খেলতে পারি যেন।”
“এটা তো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না (মনিকা খেলবে কিনা)। দলে এখন যারা আছি, সবাই কিন্তু ভালো। তো আসলে একজন খেলোয়াড় হিসেবেই কেউ থাকবে বা থাকবে না, এটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ না। যে ভালো খেলে, সে দলে থাকে। এখন আমি, মনিকা আছি আর আমাদের পাশে নতুন করে মৌমিতা আর অর্পিতা এসেছে, তারাও ওইভাবে ভালো খেলবে।”