Published : 05 Jul 2025, 12:08 PM
শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে বসে পড়লেন এস্তেভো উইলিয়ান। হতাশায় দু হাত দিয়ে ঢাকলেন মুখ। ছুটে এসে তাকে পিঠ চাপড়ে দিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলেন কোল পালমার ও চেলসির বেশ কজন ফুটবলার। ক্লাব বিশ্বকাপে পালমেইরাসের স্বপ্নময় পথচলা শেষ হলো ম্যাচ হেরে। এস্তেভোর হতাশা সেই কারণেই। তবে কদিন পরই তো নতুন স্বপ্নের পথে ছোটা শুরু হবে তার চেলসির জার্সিতেই!
প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ব্রাজিলে ‘মেসিনিয়ো’ বা ছোট মেসি নামে খ্যাতি পেয়ে যাওয়ার এস্তেভোর সঙ্গে গত বছরের জুনেই চুক্তি পাকা করে রেখেছে চেলসি। অপেক্ষা ছিল তার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার। সেটিও হয়ে গেছে গত এপ্রিলে। এই ক্লাব বিশ্বকাপ শেষেই আনুষ্ঠানিকভাবে চেলসির হয়ে যাবেন তিনি।
কাকতালীয়ভাবে সেই চেলসির সঙ্গেই তার ক্লাব পালমেইরাসের দেখা হয়ে গেল কোয়ার্টার-ফাইনালে। চেলসি ও ইউরোপের আরও বেশ কিছু ক্লাব কেন তাকে পেতে মরিয়া ছিল, সেটির নমুনা কিছুটা এই ম্যাচেও তিনি দেখান। উপহার দেন অবিশ্বাস্য এক গোল। কিন্তু আত্মঘাতী গোলে ম্যাচ হেরে যায় পালমেইরাস।
ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে পালমেইরাসকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায় চেলসি। ষোড়শ মিনিটে পালমারের গোল এগিয়ে নেয় ইংলিশ ক্লাবটিকে। ৫৩তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক কোণ থেকে গুলির বেগে শটে চোখধাঁধানো গোল করে পালমেইরাসকে সমতায় ফেরান এস্তেভো। তবে ৮৩তম মিনিটে পালমেইরাসের ডিফেন্ডার আগুস্তিন জিয়াইয়ের পায়ে লেগে বল ঢুকে যায় নিজেদের জালে।
ওই গোলেই বিদায় নেন পালমেইরাস। এই ক্লাবের হয়ে এস্তেভোর পথচলারও সমাপ্তি এতে। দল হারলেও ম্যাচ-সেরা ছিলেন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গারই।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের কাছ থেকে আবেগময় আবহে বিদায় নেন এস্তেভো। পরে সংবাদ সম্মেলনেও তার প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।

“একটি গোল করে দলকে সহায়তা করতে পারায় আমি খুশি। তবে ম্যাচটি আমরা হেরে গেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ফল আমাদের প্রত্যাশিত ছিল না। যদিও ফুটবল এমনই। আমরা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
পালমেইরাসের কোচ আবেল ফেহেইরা, যাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয় এস্তেভোকে গড়ে তোলার জন্য, সেই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তরুণ এই ফুটবলার। ভালোবাসা জানালেন পালমেইরাসের প্রতিও।
“কোচ, সবকিছুর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তিনিই আমাকে ট্যাকটিক্যালি খেলতে শিখিয়েছেন এবং এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পালমেইরাস আমার জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছিল এবং সেখানে খুবই খুশি ছিলাম আমি।”
“আমি ও আমার পরিবার এই ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞ, কোচ আবেলের প্রতি ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ, আমার জন্য যা করেছেন তারা। পালমেইরাসকে আমি হৃদয়ে ধারণ করব আজীবন।”
চেলসির কোচ এন্টসো মারেস্কা, কদিন পরই যিনি কোচিং করাবেন এস্তেভোকে, তার জন্য ম্যাচটি ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ।
“খুবই খুশি যে আমরা ম্যাচটি জিতেছি, পাশাপাশি আরও খুশি সে দুর্দান্ত একটি গোল করেছে। আমাদের জন্য আদর্শ একটি রাত এটি।”