Published : 04 Jun 2026, 10:09 AM
১৯৩৮ আসরের এক যুগ পর, ১৯৫০ সালের ২৪ জুন থেকে ১৬ জুলাই ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপের চতুর্থ আসর। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে হয়নি বিশ্বকাপ।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউরোপ থেকে অনেক দূরে ব্রাজিলে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয় ১৯৪৬ সালে।
বিশ্ব যুদ্ধে ভূমিকার জন্য বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ ছিল জার্মানি ও জাপান। ‘কোল্ড ওয়ার’ এর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে অংশ নেয়নি সোভিয়েত ইউনিয়ন, হাঙ্গেরি ও চেকোস্লোভাকিয়া।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে ঝামেলায় বাছাই পর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় আর্জেন্টিনা। ভিন্ন ভিন্ন কারণে চূড়ান্ত পর্ব থেকে সরে যায় ফ্রান্স, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত।
১৩ দেশের টুর্নামেন্টের একটি দল ইংল্যান্ড, যারা অবশেষে ফিফার সদস্য হয়।
ফিফা সভাপতি হিসেবে জুলে রিমের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আসর থেকে ফুটবল বিশ্বকাপের নামকরণ করা হয় ‘জুলে রিমে বিশ্বকাপ।’ ১৯৭০ পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত ছিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা।
বিশ্কাপে অংশ নেয় যে দেশগুলো-
ইউরোপ: ইতালি, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া, ইংল্যান্ড
উত্তর আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
দক্ষিণ আমেরিকা: ব্রাজিল, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও চিলি
১৩ দল চারটি গ্রুপে খেলে। গ্রুপগুলো হলো-
গ্রুপ ‘১’: ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুগোস্লাভিয়া, সুইজারল্যান্ড
গ্রুপ ‘২’: ইংল্যান্ড, স্পেন, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র
গ্রুপ ‘৩’: সুইডেন, ইতালি, প্যারাগুয়ে
গ্রুপ ‘৪’: উরুগুয়ে, বলিভিয়া
ব্রাজিলের ছয়টি শহরের ছয়টি মাঠে হয় টুর্নামেন্টের ২২টি ম্যাচ। এর মধ্যে একটি স্টেডিয়াম নতুন- মারাকানা। সেই সময়ে এর ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় দুই লাখ দর্শক!
গ্রুপ-‘১’ থেকে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয় ব্রাজিল।
দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয় যুগোস্লাভিয়া। একটি করে জয় ও ড্রয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় সুইজারল্যান্ড। তিন ম্যাচেই হেরে শূন্য হাতে বিদায় নেয় মেক্সিকো।
গ্রুপ-২ থেকে টানা তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়ে পরের ধাপে যায় স্পেন। বাকি তিন দেশের ফল একই, এক জয়ের পাশে দুই হার!
গ্রুপ-৩ থেকে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট পেয়ে পরের ধাপে যায় সুইডেন। হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে ব্রাজিল আসা ইতালি বিদায় নেয় আগেভাগেই। সুইডেনের বিপক্ষে হারের পর, জয় পায় তারা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। এক ম্যাচ ড্র করে তিন দলের মধ্যে তৃতীয় হয় পারাগুয়ে।
গ্রুপ-৪ থেকে পরের ধাপে যায় উরুগুয়ে। অস্কার মিগেলের হ্যাটট্রিকে বলিভিয়াকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনাল রাউন্ড
চার গ্রুপ সেরা ব্রাজিল, স্পেন, সুইডেন ও উরুগুয়েকে নিয়ে শুরু হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ড।
৯ জুলাই প্রথম ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ২-২ ড্র করে উরুগুয়ে। আদেমির দে মেনেজেসের চার গোলের সৌজন্যে সুইডেনকে ৭-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল।
১৩ জুলাই দ্বিতীয় রাউন্ডে একপেশে লড়াইয়ে স্পেনকে ৬-১ গোলে হারায় ব্রাজিল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সুইডেনকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখে উরুগুয়ে।
১৬ জুলাই তৃতীয় ও শেষ রাউন্ডে স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয় সুইডেন।
স্রেফ ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো ব্রাজিল। আগের দুই ম্যাচে গোল বন্যায় বড় জয় পাওয়া দলকে সমর্থন দিতে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন প্রচুর দর্শক।
১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ দর্শকের উপস্থিতিতে মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল ও উরুগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্রিয়াকার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৬৬তম মিনিটে হুয়ান আলবের্তো শিয়াফিনোর গোলে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। ৭৯তম মিনিটে মারাকানাকে স্তব্ধ করে দিয়ে সফরকারীদের এগিয়ে নেন আলসিদেস ঘিগিয়া।
২-১ গোলে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ব্রাজিলের হৃদয়ভাঙা হারের এই ম্যাচ ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয় ‘মারাকানাজো’ বা মারাকানার কান্না নামে।
এক নজরে চতুর্থ বিশ্বকাপ
স্বাগতিক: ব্রাজিল
চ্যাম্পিয়ন: উরুগুয়ে
রানার্সআপ: ব্রাজিল
মোট ম্যাচ: ২২
মোট গোল: ৮৮
গোল গড়: ৪
সর্বোচ্চ গোল: আদেমির দে মেনেজেস (ব্রাজিল)- ৯ গোল
সেরা খেলোয়াড়: জিজিনিয়ো (ব্রাজিল) [আন অফিসিয়াল]