২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 04 Jun 2026, 09:36 AM
আর্লিং হলান্ড, আলেকসান্দার সরলথ, মার্টিন ওদেগোর- নরওয়ের স্কোয়াডে দলে তারকার কমতি নেই। বাছাইপর্বে দলগত ও ব্যক্তিগত নৈপূণ্যনির্ভর ফুটবলে শক্তির জানানও দিয়েছে তারা। অনেকের চোখে, দলটি এবারের বিশ্বকাপের ‘ডাক হর্স’, গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে ছুটতে পারে অনেকটা পথ। তবে, কোচ স্তল সুলবাকেন স্বপ্নের ঘোড়ায় লাগাম টানছেন। সর্বোচ্চ মঞ্চে দারুণ কিছু করার বিশ্বাস থাকলেও, এখনও খুব বেশি দূর তাকাচ্ছেন না তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সবশেষ ১৯৯৮ আসরে খেলেছিল নরওয়ে। সেই দলের মাঝমাঠের খেলোয়াড় ছিলেন সুলবাকেন। পরের ছয়টি বিশ্বকাপে আর সুযোগ পায়নি দেশটি। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে উত্তর আমেরিকা আসরে আবার দেখা যাবে দলটিকে।
বিশ্বকাপে ফিরতে পেরেই খুশির শেষ নেই নরওয়ের মানুষের। আর দলে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় থাকায় ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদও চড়তে শুরু করেছে। অবশ্য কেবল সমর্থক-গোষ্ঠীই নয়, ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকেও এই দলের দারুণ কিছু করে দেখানোর সম্ভাবনা দেখছেন।
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ‘ডার্ক হর্স’ তকমাতেই আপত্তি তুললেন সুলবাকেন।
“আমার মনে হয় না, সবটা পথটা এগোনোর মতো ডার্ক হর্স আমরা। নিজেদের দিনে, আমরা শক্তিশালী কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারি, কেবল এক্ষেত্রে আমরা ডার্ক হর্স হতে পারি। তবে পুরো টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে আমাদেরকে ডার্ক হর্স বলাটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়।”
বাছাইপর্বে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে পেছনে ফেলে, আট ম্যাচের সবগুলো জিতে গ্রুপের সেরা হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে উঠেছে নরওয়ে। ওই আট ম্যাচে ৩৭টি গোল করে মাত্র পাঁচটি হজম করে তারা। মূল মঞ্চে মূলত তাদের উপস্থিতির কারণে ‘আই’ গ্রুপকে বলা হচ্ছে মৃত্যুকূপ, যে গ্রুপে আছে ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ও গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স, আফ্রিকার শক্তি সেনেগাল ও এশিয়ার দল ইরাক।
সুলবাকেনের কথায়ও ফুটে উঠল এই গ্রুপের চিত্র, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই ফরাসিদের এগিয়ে রাখছেন তিনি।
“আমরা খুব কঠিন গ্রুপে আছি। অবশ্যই, এই গ্রুপে ফ্রান্স সবচেয়ে ফেভারিট। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য বাকি তিন দলকে লড়াই করতে হবে। আমার মনে হয়, তীব্র লড়াই হবে এবং আশা করি, এগিয়ে যাওয়ার মতো আমাদের সেই দলগত শক্তি ও ম্যাচ-জয়ী খেলোয়াড় আছে।”
স্বপ্নের জোয়ারে বাঁধ দিলেও নরওয়ে কোচের বিশ্বাস, তার দল যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারে, তাহলে তারা সেরা বত্রিশে উঠতে পারবে এমনকি এর পরের ধাপগুলোতেও।
“নরওয়ের জন্য এই বিশ্বকাপ হলো নিজেদের জানান দেওয়ার- বিশ্বকে দেখানোর যে আমরা আগের চেয়ে হয়তো ভিন্ন ধরনের ফুটবল খেলি এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলি এবং একে অপরের জন্য কঠোর পরিশ্রম করি।”
“আমার স্বপ্নের দৃশ্য? এটা নিয়ে আমি কথা বলব না, কারণ আমার স্বপ্ন কেবল আমার জন্যই। তবে আশা করি, এই দলের সেরাটা বের করে আনতে পারব এবং নিজেদের দিনে আমরা যে কোনো দলকে হারাতে পারি।”