Published : 05 Jun 2026, 11:03 PM
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর কয়েক দিন। কিন্তু তার আগেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন পুরো বিশ্ব। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। পছন্দের দলকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদিনি দেশের কোথাও না কোথাও বের হচ্ছে শোভাযাত্রা।
শুক্রবার উপকূলীয় শহর কক্সবাজারের টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বের করেন বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায়। একইদিন শরীয়তপুর শহরে ব্রাজিল সমর্থকেরাও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ- কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠবে ফুটবল মহাযজ্ঞের। তিন দেশ মিলে ১৬টি শহরে বসবে এই বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপ।

টেকনাফ
এদিন দুপুর ২টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে মনোরম মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করেন।
বাইক শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কক্সবাজারের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইফতি ও সংগতি সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত ফুটবলপ্রেমী ও দর্শকরা প্রাণবন্ত সময় উপভোগ করেন।

আয়োজক কমিটির প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য ফুটবলকে উপভোগ করা এবং এই আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করা। পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ বিনোদনের সংস্কৃতি বজায় রেখে যেন সবাই সুন্দরভাবে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষে এই শোডাউনের আয়োজন করা হয়।”
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

শরীয়তপুর
শরীয়তপুরে শতাধিক মোটরসাইকেল ও ট্রাকে চড়ে প্রিয় দলের পতাকা হাতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন শত শত ব্রাজিল সমর্থক। এতে সব বয়সি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কেউ সন্তানকে কাঁধে তুলে, কেউ আবার মোটরসাইকেলের সামনে বসিয়ে শামিল হয়েছেন এ উৎসবে।
এদিন বিকালে সদর উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত মোটরসাইকেল এবং ট্রাক বহর নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আয়োজক রোমান খান বলেন, ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
শোভাযাত্রা দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। ব্রাজিল সমর্থকদের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সি সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে ব্রাজিল সমর্থক বাবা-ছেলে ও বাবা-কন্যাদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকেই ব্রাজিলের জার্সি পরে এবং জাতীয় পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
ব্রাজিলের আনন্দ শোভাযাত্রায় শিশুপুত্র আজানকে সঙ্গে এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এস এম শাকিল। বলেন, “ছোটোবেলায় ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ নিতে দেখেছি। সেই থেকে আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার। আজ ব্রাজিলের মহড়ায় ছেলেকে নিয়ে এসেছি। জানি না ও বড় হয়ে ব্রাজিলের সাপোর্টার হবে কী না? তবে এখন পর্যন্ত ও আমার দলেই আছে।”
মেয়ে নাজমা খাতুন ও ছেলে মনিরুল ইসলাম নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মতিউর রহমান খান। তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে স্ত্রী রিনা বেগম ও বড় ছেলে রাশেদুল ইসলাম আর্জেন্টিনার সমর্থক। অন্যরা ব্রাজিলের সমর্থক। শোভযাত্রায় অংশ নিতে পেরে মেয়ে নাজমা দারুণ উচ্ছ্বসিত।
মতিউর রহমান বলেন, “আমার স্ত্রী ও বড় ছেলে আর্জেন্টাইন সাপোর্টার। আমি এবং ছোট ছেলে ও মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক। ছোটোবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক।
“আমার ফুটবলের প্রতি যে অগাধ ভালোবাসা সেটা ছেলে-মেয়েরা মূল্যায়ন করে। আজ ওদের সঙ্গে নিয়ে মহড়ায় এসেছি। দারুণ সময় উপভোগ করলাম।”
‘ব্রাজিল ফান ক্লাবের’ সমর্থক ও শোভযাত্রার আয়োজক সালাউদ্দিন মুন্না বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও ব্রাজিল সমর্থকদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করেছি। এ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ব্রাজিল ভক্তরা কয়েকশত মোটরসাইকেল ও ট্রাক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
দলে যেহেতু নেইমার ফিরেছেন, এবার বিশ্বকাপ ব্রাজিলই জিতবে বলে বিশ্বাস এই ভক্তের।