উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 05 Jun 2026, 06:54 PM
সংবাদ সম্মেলনে অন্য এক মারিয়া মান্দাকে দেখা গেল। সারাক্ষণ যার মুখে হাসি লেগে থাকে, তার মুখটা বিষন্ন, হাসিটুকু উধাও, কিছুটা চিন্তিতও। চিন্তার অবশ্য কারণও আছে, ভারতের বিপক্ষে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যে লড়তে হবে; চাপ-চিন্তা তো থাকবেই।
মারিয়ার কাঁধে এবার দায়িত্বের বোঝা আরও ভারি। আগে ছিল কেবল মাঝমাঠ সামলানোর ভার। এবার যোগ হয়েছে, অধিনায়ক হিসেবে দলকে টেনে তোলার গুরুদায়িত্বও। তাই, এখন সবদিকেই দৃষ্টি দিতে হচ্ছে।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু শিরোপা লড়াই। শুক্রবার সকালে ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরেছে দল। সেখান থেকে দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে আসা মারিয়াকে কিছুটা ক্লান্তও দেখাল। তবে, লক্ষ্যে কথা জানাতে গিয়ে তার চোয়াল দৃঢ় হয়ে উঠল ঠিকই।
“ফাইনাল ম্যাচ, সুযোগ পেয়েছি, আসলে সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে চাই। চাপ বলতে যে…এতটাও চাপ নিচ্ছি না। কেননা, আমরা ভারতের সাথে আগে খেলেছি এবং জানি তাদের সম্পর্কে। আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
মনিকা চাকমার পায়ের চোট কিছুটা দুর্ভাবনা বাড়িয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া আছে গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরে আসার চাপ। গোয়ার গ্যালারিতে থাকবে স্বাগতিক দেশের সমর্থকও। মারিয়া অবশ্য এসব পাত্তাই দিতে চাইলেন না। নেপালকে তাদের মাঠে দুই ফাইনালে হারানোর স্মৃতি আওড়ে বললেন, ফাইনাল ছাড়া আর কোনো কিছুর দিকেই দৃষ্টি দিচ্ছেন না তারা।
“আমরা সবাই, দলের সব খেলোয়াড় ফিট আছে। ফাইনাল নিয়ে তো আমি বরাবরই বলে আসছি যে, যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই। আমরা জানি, ভারত অনেক ভালো দল। তো আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমরা ভারতের মাঠে এবার ফাইনাল খেলব, কিন্তু আমরা গত দুই সাফে যখন নেপালে খেলেছিলাম, সেখানে অনেক স্বাগতিক দর্শক ছিল; অনেক চাপ ছিল। তারপরও আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, ওগুলো মোকাবেলা করেছি।”
“এখানেও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তেমনটা হতে পারে। আসলে, মানসিকভাবে আমরা সব কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ, যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের মোকাবেলা করতেই হবে। যেহেতু আমরা সুযোগ পেয়েছি, আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে খেলার চেষ্টা করব। এর বাইরে যা কিছু হচ্ছে, সেদিকে দৃষ্টি দিচ্ছি না। শুধু খেলার দিকে মনোযোগ আমাদের।”