Published : 23 Mar 2026, 12:25 AM
আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর পথ হারিয়ে ফেলল আর্সেনাল। গোলরক্ষকের একটি ভুলে যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল তাদের। দ্বিতীয়ার্ধে নিকো ও’রাইলির জোড়া গোলে লিগ কাপ ঘরে তুলল ম্যানচেস্টার সিটি।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রোববার ফাইনালে পেপ গুয়ার্দিওলার দলের জয় ২-০ গোলে। চার মৌসুম পর আবার এই শিরোপা জিতল দলটি, মোট নবমবার।
প্রায় ৬০ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১০ শটের দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সিটি, দুটিই খুঁজে পায় ঠিকানা। আর্সেনালও ১০টি শট নিতে পারে, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে, কিন্তু ব্যর্থ হয় সবগুলোই।
প্রিমিয়ার লিগে সবশেষ দুই রাউন্ডে হোঁচট, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগেই হেরে বিদায়-এসব হতাশা সামলে মৌসুমে প্রথম ট্রফি জিতল সিটি।
ডাগআউটে দারুণ একটি রেকর্ডও গড়লেন দলটির কোচ গুয়ার্দিওলা, প্রথম কোচ হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় পাঁচটি শিরোপা জিতলেন তিনি।
শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালোই করে আর্সেনাল। সপ্তম মিনিটে এক আক্রমণেই দারুণ তিনটি সুযোগ তৈরি করে তারা; তবে জেমস ট্র্যাফোর্ড ছিলেন চীনের প্রাচীর হয়ে। সময়মতো এগিয়ে কাই হাভার্টসের শট আটকে দেওয়ার পর, বুকায়ো সাকার দুটি প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক।
শুরুর চাপ সামলে বল দখলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের পরীক্ষা নেওয়ার মতো কিছু করতে পারছিল না তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গিয়ে গোলের জন্য দুটি শট নিতে পারে দলটি, যদিও এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

বিরতির পর খেলায় গতি বাড়ায় সিটি। আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা; কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারছিল না দলটি।
অবশেষে ৬০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে সিটি এবং গোলরক্ষকের ভুলে সেটা থেকেই এগিয়ে যায় তারা।
বের্নার্দো সিলভার পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শট নেন হায়ান শেহকি। নাগালের মধ্যে থাকলেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি কেপা আরিসাবালাগা, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে হেডে জালে পাঠান ও’রাইলি।
চার মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণও করে ফেলে সিটি। এবার ডান দিক থেকে মাথেউস নুনেসের ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডেই গোলটি করেন তরুণ ইংলিশ লেফট-ব্যাক।
শেষ দিকে দুইবার দুর্ভাগ্যের বাধার মুখে পড়ে আর্সেনাল। ৭৮তম মিনিটে রিকার্দো কালাফিওরির শট পোস্টে বাধা পাওয়ার ১০ মিনিট পর, গাব্রিয়েল হেসুসের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়।
তাতে সবশেষ ২০২০ সালে মেজর কোনো শিরোপা (এফএ কাপ) জয়ের স্বাদ পাওয়া দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও শেষ হয়ে যায়।