Published : 29 Aug 2025, 05:28 PM
ধীরে ধীরে যেন তারকাশূন্য হয়ে যাচ্ছে বুন্ডেসলিগা। সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে পারছে না জার্মানির শীর্ষ লিগ। তারকাদের মূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ড। বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির মতে, টিভি সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি থেকে আয়ের অর্থ দিয়ে বড় খেলোয়াড়দের নিয়ে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবগুলো।
নতুন মৌসুমে ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, বেনিয়ামিন শেশকো, ইয়েরেমি ফ্রিমপং, উগো একিটিকের মতো বুন্ডেসলিগার শীর্ষ খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।
গণমাধ্যমের খবর, চলতি মৌসুমে বায়ার্নের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ভিএফবি স্টুটগার্ট স্ট্রাইকার নিক ভল্টামাডা, কিন্তু তিনিও নাকি শিগগির যোগ দিতে পারেন প্রিমিয়ার লিগের দল নিউক্যাসল ইউনাইটেডে।
খেলোয়াড়ি জীবনে সেরা সময় ইংল্যান্ডেই কাটান কোম্পানি। বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক। পরে বার্নলির কোচ হিসেবেও ইংলিশ ফুটবলে কাজ করেছেন তিনি। খেলোয়াড়দের বুন্ডেসলিগা ছাড়ার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অভিজ্ঞতার ঝাঁপি খুলে দিলেন কোম্পানি।
“অর্থ? সত্যি বলতে, প্রিমিয়ার লিগে বার্নলির হয়ে অভিজ্ঞতার কথা আমার মনে পড়ছে। হুট করে টিভির অর্থ মিলল, আর শীর্ষ লিগে আসা দলগুলোর জন্য সেটা একশ মিলিয়ন (পাউন্ড)।”
কোম্পানির কোচিংয়ে ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল বার্নলি। তখন দল সাজাতে তারা প্রচুর অর্থ পেয়েছিল।
“২০-২৫ মিলিয়ন থেকে বাজেট হয়ে যায় ১২০ থেকে ১৩০ মিলিয়ন। যা দিয়ে আপনি বুন্ডেসলিগায় সেরা ছয় বা আট দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।”
নতুন চুক্তিতে জার্মানিতে শীর্ষ দুই লিগের ক্লাবগুলো আগামী চার বছর ১০০ কোটি পাউন্ড কিছু বেশি অর্থ ভাগ করে নেবে। ইংল্যান্ডে কেবল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো প্রতিবছর এর তিনগুণের বেশি অর্থ পায়। যে কারণে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো বাড়তি সুবিধা পায় বলে মনে করেন কোম্পানি।
“যখন সান্ডারল্যান্ড খেলোয়াড় কেনে, সেটা নেয় তারা বায়ার লেভারকুজেন থেকে এবং এসি মিলানের সঙ্গে লড়াই করে। এটাই অর্থনৈতিক বাস্তবতা। অনেক বছর ধরে যেটা তারা বিকশিত করতে পেরেছে, বিশেষ করে টিভির অর্থ দিয়ে।”
বায়ার্ন কোচ মনে করেন, এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের ধরে রাখার পথ বের করার দায়িত্ব বুন্ডেসলিগার।
“প্রতিযোগিতাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাখার পথ বুন্ডেসলিগারই বের করে নিতে হবে। সব খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগে চলে যাচ্ছে। এমন নয় যে, তারা পাঁচ বা ছয় বছর ধরে বুন্ডেসলিগার শীর্ষ খেলোয়াড়, এক বা দুই বছরের। তাই আমাদের নতুন খেলোয়াড় আসবে।”
“মানের দিক থেকে কোনো ঘাটতি থাকবে না। তবে সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে হবে, এটা এখন জার্মানির বুন্ডেসলিগার মূল আলোচ্য বিষয়।”