সিলেটে ১৩ ঘণ্টা লোড শেডিং ধরে সূচি প্রকাশ

বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে লোড শেডিং সূচি থেকে বাড়তে বা কমতে পারে।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 07:52 AM
Updated : 25 July 2022, 07:52 AM

পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সিলেটের কোনো কোনো স্থানে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লোড শেডিং ধরে নতুন সূচি প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

রোববার জারি করা নতুন সূচি সোমবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিডিবির বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সামছ ই আরেফিন।

সিলেটে পাঁচটি বিতরণ অঞ্চলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কেবল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ নয়, সব অঞ্চলেই নয় থেকে ১০ ঘণ্টা লোড শেডিং ধরে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পিডিবি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে বিদ্যুৎ ও তেলের খরচ কমানোর একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, আপাতত দেশে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্থগিত রাখা হবে। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকবে সপ্তাহে একদিন।

জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে দিনে এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তা সমন্বয় করতেই আপাতত দিনে এক ঘণ্টা করে লোড শেডিংয়ের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার।

কিন্তু শুরু থেকেই এমন ঘোষণা মানছে না সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। প্রথম দিনই তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লোড শেডিং ধরে সূচি প্রকাশ করে তারা। যদিও নিজেদের প্রকাশিত সূচি মেনেনি পিডিবি। প্রথম দিন থেকেই অনেক জায়গায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার লোড শেডিংয়ের কবলে পড়েন গ্রাহকরা।

এক সপ্তাহের মাথায় এবার ১৩ ঘণ্টার লোড শেডিংয়ের সূচি প্রকাশ করল পিডিবি। এতে দিনের বেশিরভাগ সময় লোড শেডিং থাকবে সিলেটে।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সামছ ই আরেফিন বলেন, “আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। চাহিদার ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ বরাদ্দ পাচ্ছি। এতে শিডিউলের বাইরে গিয়ে আরও বেশি সময় লোড শেডিং করতে হচ্ছে।“

তিনি বলেন, “মানুষজন যাতে আগে থেকেই জানতে পারেন, সেজন্য ১৩ ঘণ্টা লোড শেডিং ধরে সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এটিও প্রাথমিক সূচি। বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে লোড শেডিং সূচি থেকে বাড়তে বা কমতে পারে।”

নতুন শিডিউল অনুযায়ী, সিলেট মহানগরীর বালুচর, আরামবাগ, আল-ইসলাহ, নতুন বাজার, গোপালটিলা, আলুরতল, টিবি গেট, সোনারপাড়া, মজুমদারপাড়া, পূর্ব মিরাবাজার, দর্জিপাড়া, খারপাড়া, কুমারপাড়া, নাইওরপুল, ধোপাদিঘিরপাড়, ঝরনারপাড়, কুশিঘাট, নয়াবস্তি, টুলটিকর, মিরাপাড়া, মেন্দিবাগ, সাদাটিকর, নোওয়াগাঁও, শাপলাবাগ, মেন্দিবাগ, হকার্স মাকেট, কালীঘাট, আমজাদ আলী রোড, মহাজনপট্টি, মাছিমপুর, ছড়ারপার, উপশহর ব্লক-এইচ, আই, জে, ই, এফ, জি, সাদাটিকর, রায়নগর, ঝর্নারপাড়, দর্জিবন্দ, বসুন্ধরা, খরাদিপাড়া, দপ্তরীপাড়া, আগপাড়া, কাজীটুলা, মানিকপীর মাজার, নয়াসড়ক, বারুতখানা, জেলরোড, হাওয়াপাড়া, চারাদিঘীরপাড়, চালিবন্দর, কাষ্টঘর, সোবহানীঘাট, বিশ্বরোড, জেলখানা, বঙ্গবীর, পৌরমার্কেট, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, সবুজবাগ, সেনপাড়া, হাতিমবাগ, লামাপাড়া, রাজপাড়া উপশহর ব্লক-এ, বি, সি, ডি, তেররতন, মেন্দিবাগ পয়েন্ট, ডুবড়ীহাওর, নাইওরপুল, ধোপাদিঘিরপাড়, সোবহানীঘাট, বঙ্গবীর যতরপুর, মিরাবাজার, আগপাড়া, ঝেরঝেরিপাড়া, মীরেরচক, মুক্তিরচক, মুরাদপুর, পীরেরচক এলাকাগুলো ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টা লোড শেডিংয়ের মধ্যে পড়বে।

পিডিবির সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, “কেবল বিতরণ বিভাগ-২ নয়, পুরো সিলেটেই এমন অবস্থা। আট থেকে ১০ ঘণ্টা লোড শেডিং ধরে নতুন সূচি করা হচ্ছে । বিভিন্ন স্থানে কলকারখানা চালু থাকায় দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম মিলছে। দিনে লোড শেডিং বেশি হচ্ছে, রাতের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো।“

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক