‘ঘণ্টায় ঘণ্টায়’ লোড শেডিংয়ে কাবু রংপুর

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ কম থাকায় এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোড শেডিংয়ের সিডিউল মানা সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2022, 12:31 PM
Updated : 23 July 2022, 12:31 PM

রংপুরে সিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুতের লোড শেডিং না হয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। অপরদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ কম থাকায় এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোড শেডিংয়ের সিডিউল মানা সম্ভব হচ্ছে না।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) মাধ্যমে রংপুর নগরীসহ আশপাশেরএলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর আওতায় কয়েক হাজার সাধারণ গ্রাহকসহ বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোড শেডিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়; যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়।

রংপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যাপস্থাপক (জিএম) হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শনিবার বলেন, “আমাদের আজ দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ৬৩ মেগাওয়ার্ড। আমরা পেয়েছি মাত্র ৪০ মেগাওয়াট; ঘাটতি ২৩ মেগাওয়ার্ড। আর রাতের বেলা প্রয়োজন ৮৫ মেগাওয়ার্ড কত পাবো তা জানি না।

“তবে সবসময় ৩০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী কম পাই। তাই দিয়ে চলতে হয় আমাদের।”

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে বিদ্যুৎ ও তেলের খরচ কমানোর একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে রয়েছে, আপাতত দেশে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্থগিত রাখা হবে। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকবে সপ্তাহে একদিন।

জ্বালানি সাশ্রয় নীতির কারণে দিনে এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তা সমন্বয় করতেই আপাতত দিনে এক ঘণ্টা করে লোড শেডিংয়ের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার।

কিন্তু রংপুরে সেই সিডিউল মানা হচ্ছে না বলে জানান কাচারী বাজার এলাকার কম্পিউটার ব্যবসায়ী লতিফুল বারি রতন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঙ্গলবার থেকে এলাকাভিত্তিক লোড শেডিংয়ের কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, নির্দিষ্ট একটা সময়ে একবার বা দুইবার লোড শেডিং হবে। কিছুটা কষ্ট হলেও সেটা মেনে নেওয়া যাবে। কিন্তু এখন তো উল্টো চিত্র দেখছি।

“প্রতি ঘণ্টায় যেভাবে লোড শেডিং হচ্ছে তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে। কম্পিউটারে টাইপ করে আমাদের সংসার চলে। কিন্তু লোড শেডিংয়ের কারণে কাজ করতে পারছি না। বিদ্যুৎ আসার সময় আছে, যাওয়ার কোনো সময় নাই।”

জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাই কী আর বলব আপনাকে, যদি সিডিউল মোতাবেক বিদ্যুৎ থাকত তাহলে ভালো হতো; সারা দিনে আমরা কয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই তার কোনো হিসাব নেই।

ধাপ শিমূল এলাকার গৃহিনী কোহিনুর আকতার কেয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিদ্যুৎ এক ঘণ্টা থাকছে তো দুই ঘণ্টা থাকে না। এ অবস্থায় আমরা নগরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।“

একই অভিযোগ করেন চওড়ার হাট এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান মুরাদ এবং ধাপ পূর্বগেট এলাকার রহিম মিয়া।

ধাপ এলাকার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আলাল মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ এক ঘণ্টা থাকছে তো দুই ঘণ্টা থাকে না। এ অবস্থায় জেনারেটর দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে রোগীসহ সবার ভোগান্তি চরমে উঠেছে।”

রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী বলেন, “লোড শেডিংয়ের কারণে জেনারেটর দিয়ে হিমাগার চালানো হচ্ছে। এতে করে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ কারণে মজুদকৃত পণ্যের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আলু বীজের সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।”

নেসকো লিমিটেডের রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী রংপুরে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তাই আমরা ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারছি না। আমাদের প্রয়োজন ৭৫০ মেগাওয়ার্ড; কিন্তু পেয়েছি ৫২০ মেগাওয়ার্ড। ঘাটতি ২৩০ মেগাওয়ার্ড।“

তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক