১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন চান বিএনপির এমপি রেজা

“মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে মানুষ নামাজ পড়বে, মসজিদে কোরআন শরিফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনীতি করে।”

মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন চান বিএনপির এমপি রেজা
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jun 2026, 08:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:28 PM

মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন করার দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ।

সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইংগিত করে রেজা বলেন, “আমার দেশে মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে মানুষ নামাজ পড়বে, মসজিদে কোরআন শরিফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনীতি করে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব আইন পাস করার জন্য, যাতে কোনো মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়।”

বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে সভা করে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা যেমন প্রকাশ্যে ফুটবল মাঠে বা হাই স্কুলে বা কোনো হলরুমে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলরা কর্মীসভা করি, জনসভা করি, মিটিং করি; তাদেরকেও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তারা মসজিদে মিটিং করতে পারবে না।”

বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে রেজা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও কৃষি ভর্তুকির বরাদ্দ বিরোধী দলের আসনেও যাবে।

তিনি বলেন, “এই বাজেটে শিক্ষাখাতে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, উনারা শিক্ষার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের দাবি করেন। উনারা কি স্কুল-কলেজ নেবেন না?

“এই বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। উনারা সবাই হাসপাতাল দাবি করেন। আমাদের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সারা বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা করা হবে। তাহলে কি উনারা হাসপাতাল নেবেন না?”

নিজ নির্বাচনী এলাকা দৌলতপুরের উন্নয়ন, চরাঞ্চলে শিক্ষক নিয়োগ, সীমান্ত এলাকায় মাদক এবং বালুমহলকেন্দ্রিক সন্ত্রাসের কথাও সংসদে তোলেন এই সংসদ সদস্য।

রেজা বলেন, তার উপজেলায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং সেখানে “এত ধরনের মাদক আছে, যেটা অকল্পনীয়।”

প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার উপজেলায় পুলিশের তিনটা গাড়ি, তার দুইটা নষ্ট। তারা কাজ করতে পারে না। ওই জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে ভালো হত। আমার উপজেলায় অন্তত পাঁচটা পুলিশের গাড়ি দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করব।”

চরাঞ্চলে সন্ত্রাস ও বালুমহল নিয়ে খুনোখুনির কথা তুলে ধরে রেজা বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় কিন্তু এই সন্ত্রাসটা ছিল না। এখন মানুষ বলছে যে বিএনপি এসে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। যেকোন মূল্যে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, সে বিএনপির যে নেতাই প্রশ্রয় দিক, এই বালুমহল বন্ধ করতে হবে।”