১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জমির উদ্দিন সরকার শায়িত হবেন জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে

রোববার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই স্পিকারের জানাজা হবে।

জমির উদ্দিন সরকার শায়িত হবেন জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2026, 03:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে সংসদ প্রাঙ্গণেই দাফন করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রোববার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের জানাজা হবে। জানাযা শেষে সংসদের ‘নির্ধারিত চত্বরে’ তাকে সমাহিত করা হবে।

রোববার ভোরে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের সংসদ সদস্য জমির উদ্দিন সরকার; তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।

২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, যেখানে সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিককে দাফন করা হয়েছে, সেখানেই সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়।”

এদিকে জমির উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এক বার্তায় বলেছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় তার বাবার মরদেহ তার নিজ এলাকা পঞ্চগড়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন নওশাদ জমির।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম। আইন পেশায় তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান। 

ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির যুক্ত হন।

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠন করলে তাতে যোগ দেন জমির উদ্দিন সরকার। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের সরকারে জমির উদ্দিন সরকার যখন গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখনই বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ হয়। আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে জমির উদ্দিন সরকারকে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

১৯৯৬ সালে বিএনপির স্বল্পকালীন সরকারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। ওই সময়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়।