পুলিশের ওপর হামলা: বাবা-মা ও ভাই-বোনসহ ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে
সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর আসামি অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জ সদরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার বাবা-মা এবং ভাই-বোনসহ আটজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় রোববার দুপুরে আসামিদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ।
কারাগারে যাওয়ারা হলেন- সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরী ও দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল, মা শাম্মী আক্তার পলি এবং বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা। বাকিরা প্রিন্সের বন্ধু ও সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় প্রিন্সসহ আটজনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন একই থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গভীর রাতে প্রিন্সকে থানা হাজতে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রিন্স খিঁচুনির মতো আচরণ করতে থাকেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে তারা প্রিন্স মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাত দেড়টার দিকে পুলিশি নির্যাতনে প্রিন্স মারা গেছেন বলে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করেন বাবা শাহরুখ রাজা।
এ সময় তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সদর হাসপাতালের কম্পাউন্ডে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার দুই দিন পর শনিবার মধ্যরাতে প্রিন্সকে সিলেট কুইন্স হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার বাবা-মা, দুই ভাই ও এক বোনসহ প্রিন্সের দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
