১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 07:43 PM

Updated : 10 Oct 2026, 08:15 PM

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

সন্ধ্যা ৬টার দিকেও উভয়পক্ষের লোকজন দুই দিকে অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

গুলিবিদ্ধ মো. হৃদয়কে (২৬) নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অপু কুমার সাহা। হৃদয় ওই এলাকার ছামেদ আলীর ছেলে।

একই হাসপাতালে বক্তাবলীর আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখ (৩০) পায়ে দুটো টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হন। তাকেও ঢাকায় পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এ ছাড়া আহত আকবর নগরের শামসুল (৩২) ও মধ্যনগরের সৌরভসহ (২৮) অন্তত ১০ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার ও ধলেশ্বরী নদীর তীরের ইটভাটায় শ্রমিক ও মাটি সরবরাহের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছামেদ আলীর সঙ্গে একই ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের আগে থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল।

এদিন সকালে আকবনগরের পাশের গ্রাম চরবক্তাবলী এলাকায় ইউনিয়ন কৃষক দলের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজবিরোধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে খিচুড়িও খান নেতাকর্মীরা। পরে দুপুরে অনুসারীদের নিয়ে আকবরনগর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ছামেদ আলীর বাড়ির সামনে মহড়া দেন হালিম। এ সময় ছামেদ আলীর লোকজনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক অপু কুমার সাহা। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত রাজু সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিএনপির লোক। এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ লোকজন মিটিং-মিছিল করতেছে, আমাদের বাড়িঘরে হামলা করতেছে। সামেদ আলী ও তাদের লোকজন ইটভাটাগুলো সব দখল করে রেখেছে। আমরা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরার কথা বলায় তারা আমাদের ওপর হামলা করছে।”

বাসা থেকে বেরিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার পথে বিএনপি নেতা হালিম আজাদের লোকজনের হামলার শিকার হন বলে দাবি করেছেন গুলিবিদ্ধ হৃদয়।

“পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে আমাদের ওপর হালিম হামলা করছে। তার দলবল এলোপাথাড়ি গুলি করছে”, অভিযোগ হৃদয়ের।

তবে বিএনপি নেতা হালিম আজাদ বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের কৃষক দলের প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রাম শেষে যাবার পথে সামেদ আলীর লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

“সামেদ আলী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা, বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামি, তারপরও তাদের লোকজন ইটভাটাগুলোতে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। আমরা চাঁদাবাজি বন্ধের পক্ষে। আমরা কোনো হামলার পক্ষে না।”

এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা হালিম আজাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরদিন এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাও হয়।

শনিবার সংঘর্ষের পর বেলা ৩টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সামেদ আলীর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

সামেদ আলী বলেন, “আমি আগে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের লগে ছিলাম। কিন্তু কোনো পদ-পদবী ছিল না। অগাস্টের পর আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য সব দখল করছে বিএনপির লোকজন। আমার স্ত্রী ছাড়া বাড়িতে কেউ থাকে না। আমাগো সরাইয়া দিয়া সবকিছুর দখল নিতে চায় হালিম ও তার লোকজন।”

স্থানীয়রা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সামেদ আলী ও তার লোকজন আধিপত্যের দ্বন্দ্বে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। সামেদ আলীর বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এদিন সন্ধ্যায় আকবর নগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন। তিনি বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনকে আটক ও কিছু টেঁটা জব্দ করেছি। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”