প্রত্যাবাসন: রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে ফের এল মিয়ানমারের দল
সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তৃতীয়বারের মত মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে।
প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তৃতীয়বারের মতো মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের টেকনাফ পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় পৌরসভার জালিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি দিয়ে ৩২ সদস্যর মিয়ানমার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ আসে বলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সামছু দৌজা নয়ন জানান।
মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির রাখাইন প্রাদেশিক সরকারের ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর স নাইং।
সামছু দৌজা নয়ন বলেন, সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করতে মিয়ানমারের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদল আবার বাংলাদেশে এসেছে। তারা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।
সকালে বাসে করে লেদা-নয়াপাড়া ক্যাম্পে বসবাসকারী দেড়শ পরিবারকে ধাপে ধাপে টেকনাফের নাইট্যংপাড়া বনবিভাগ ও সড়ক জনপদ বিভাগের রেস্ট হাউসে আনা হয়। পরে তাদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কথা বলা শুরু করে বলে জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ।
মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে আসা টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা মো. বজলুল রহমান বলেন, “মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসা হয়েছে। আমার ক্যাম্প থেকে অর্ধশতাধিক লোকজনকে আনা হয়েছে।
“তারা মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। মূলত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।”
বৈঠকে অংশ নিতে আসা টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আলী আহমদ বলেন, “আমরা মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে এখানে এসেছি। আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরব। মূলত বৈঠক শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
“কারণ, এই প্রতিনিধিদল এর আগে দুইবার এসে ঘুরে গেছে। তখন তাদের কথায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।”
এর আগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ২৫ মে দুই দফায় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। সে সময় প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মিয়ানমারে ফিরে যান তারা।
রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ দেখতে ৫ মে বাংলাদেশ সরকার ও রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল রাখাইন সফর করে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আট লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়।
গত বছর জানুয়ারিতে ওই তালিকা থেকে পরিবারভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১৪০ জনকে বাছাই করা হয় পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে। এর মধ্যে ৭১১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মতি দিলেও বাকি ৪২৯ জনের ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল।
সে সময় ৪২৯ জনের তথ্য যাচাইবাছাই করতেই মিয়ানমারের ১৭ জন সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছিল।
আরও পড়ুন:
টেকনাফে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ক্যাম্প পরিদর্শনে চীনের রাষ্ট্রদূত
প্রত্যাবাসন: এবার ‘পরিবেশ’ দেখতে মিয়ানমার যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা
৫০০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই, ফিরে গেল মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল
প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল শুনছেন রোহিঙ্গাদের কথা
রোহিঙ্গা সঙ্কটের ৫ বছর: আটকে প্রত্যাবাসন, চিন্তা বাড়াচ্ছে জন্মহার
মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরলে 'টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন': জাপানি প্রতিমন্ত্রী
বছরের শেষ নাগাদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর আশায় পররাষ্ট্র সচিব
