১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরলে 'টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন': জাপানি প্রতিমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন করে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান তিনি।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরলে 'টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন': জাপানি প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাকেই শুনসুকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Nov 2022, 12:27 AM

Updated : 24 Nov 2022, 12:47 AM

মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাকেই শুনসুকে।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন করে বলেও জানান তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাপান মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং ক্যাম্পে নতুন শিশুর জন্মের ফলে তাদের সংখ্যা বাড়ছে।

মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হল রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক ও অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত। তারা (রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণ দল) একে অপরের সাথে মারামারি ও হত্যা করছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ককে বিস্ময়কর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, যা ক্রমবর্ধমান হারে বিকশিত হচ্ছে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পরপরই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

“তারা এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছে যার মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ি এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল।“

শেখ হাসিনা প্রয়াত জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে ‘বাংলাদেশের মহান বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এসময় জাপানের প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গর্ববোধ করে। তার দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

পাঁচ বছর আগে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নে বিস্মিত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাকেই শুনসুকে বলেন, দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ঢাকা থেকে টোকিওর মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনার ফলে আগামী দিনে যোগাযোগ বাড়বে।

এসময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস এবং ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি উপস্থিত ছিলেন।