চাঁদপুরে টয়লেটে মিলল বিউটিশিয়ানের গলাকাটা লাশ

স্থানীয় বাজারে বিউটি পার্লার চালিয়ে আসছিলেন রিক্তা, স্বামী থাকেন প্রবাসে। নিঃসন্তান রিক্তার বাসায় ছিলেন কেবল তার বড় বোনের ছেলে।

চাঁদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Jan 2024, 06:14 AM
Updated : 18 Jan 2024, 06:14 AM

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক নারীকে গলা ও পায়ের রগ কেটে খুন করা হয়েছে।

উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমান্দারি এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে বুধবার রাতে তার লাশ উদ্ধারের কথা জানান ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল।

নিহত মমতাজ বেগম রিক্তা (৩৫) স্থানীয় গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ‘বধূবরণ’ বিউটি পার্লার চালিয়ে আসছিলেন। নিঃসন্তান রিক্তার স্বামী প্রবাসে থাকায় বড় বোনের ছেলে বাপ্পিকে (১৮) নিয়ে তিনি থাকতেন। বাপ্পি গৃদকালিন্দিয়া বাজারে মোবাইল মেরামতের কাজ শিখছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের পার্লার থেকে বাসায় ফেরেন রিক্তা। রাত ৮টার দিকে ভাগনে বাপ্পি বাড়ি ফিরে ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখতে পান। এরপর বাড়ির অন্যদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে টয়লেটের ভেতরে কম্বলে মোড়ানো লাশ দেখে জরুরি সেবা নম্বরে কল দিয়ে তারা পুলিশ ডাকেন।

বাপ্পি বলেন, “জন্মের পর মা মারা যাওয়ায় খালার কাছেই বড় হয়েছি। কাল সন্ধ্যা ৬টায় খালামনিকে দেখেছি বাজার থেকে পুরি নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। আমি রাত ৮টার সময় বাজার থেকে বাড়িতে এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। খালাকে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার লক ঘোরাতেই খুলে যায়। তখন বিদ্যুৎ ছিল না।

“ঘরে ঢুকে দেখি মেঝেতে খালার রক্তমাখা বোরখা‌। চিৎকার করে পাশের ঘরে মাহফুজ মামার (রিক্তার চাচাত ভাই) স্ত্রী লাকি মামানিকে ডাকি। এরপর মামানি আর তার মেয়ে ঐশীর সঙ্গে খোঁজাখুঁজি করে টয়লেটের ভেতরে খালাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।”

নিহতের চাচাত ভাই মাহফুজুর রহমান জুয়েল বলেন, “জেঠা ও জেঠি মারা যাওয়ার পর থেকেই রিক্তা বাবার বাড়িতে থাকে। দশ বছর আগে চট্টগ্রামে রিক্তার বিয়ে হয়। তার দুবাই প্রবাসী স্বামী মাস দুই আগে দেশে ছুটি কাটিয়েও গেছে।”

জানতে চাইলে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল বলেন, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।”