গোপালগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নতুন বই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ

৩০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি বই কিনেছেন বলে জানিয়েছেন বই ক্রেতা ফেরিওয়ালা।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2023, 10:17 AM
Updated : 24 Jan 2023, 10:17 AM

গোপালগঞ্জে কাশিয়ানি উপজেলায় নতুন শিক্ষা বছরের সরকারি বিনামূল্যের বই কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

সোমবার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।

ইউএনও মেহেদী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি শুনে গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে বইগুলো জব্দ করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বইগুলোর মধ্যে জাতীয় রয়েছে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ২০২২ ও ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, ইরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারুপাঠ, কৃষি শিক্ষা, আনন্দপাঠ, গার্হস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগবন্ধু বিশ্বাস সোমবার দুপুর ২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেন। এরপর তিনি সরকারি বিনামূল্যের বই ৩০ টাকা কেজি দরে দুই ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করেন।

স্থানীয় লোকজন ফেরিওয়ালাদের কাছে বইগুলো দেখতে পেয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানান।

বই ক্রেতা ফেরিওয়ালা কাওছার শেখ জানান, তিনি শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগবন্ধু বিশ্বাসের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি বই কিনেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদুল হক বলেন, “আমি জমির কাজ করে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের সামনে ভাঙারি বোঝাই ফেরিওয়ালাদের একটি ভ্যান ও দুইজন লোককে দেখতে পাই। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি এখানে কি করেন? তারা জানায়, ‘এই স্কুল থেকে কিছু বই কিনেছি’।

“দেখতে চাইলে তারা উপস্থিত লোকজনের সামনে বইগুলো দেখান। সেগুলোর গায়ে ‘২০২২ শিক্ষাবর্ষ’ ও ‘২০২৩ শিক্ষাবর্ষ’ লেখা রয়েছে। পরে আমরা এলাকাবাসী বইসহ তাদেরকে আটক করি এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানাই।

“পরে ইউএনওর নির্দেশে গ্রাম পুলিশের কাছে বইগুলো হস্তান্তর করি।’

কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মুন্সি বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই দিয়েছেন। অথচ ওই প্রধান শিক্ষক চাহিদার অতিরিক্ত বই এনেছেন। তাই  নতুন অর্থ বছরের অতিরিক্ত বই তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।

এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বই বিক্রির নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো বই বিক্রি করিনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, আমি আপনার সঙ্গে এসে দেখা করব।”

কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, “আমরা বিক্রি করা বইগুলো জব্দ করেছি। প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছি। তিন দিনের মধ্যে ওই প্রধান শিক্ষককে তার জবাব দিতে  বলা হয়েছে। এরপর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বই বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক