২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

কেজি দরে পাঠ্যবই বিক্রির সময় শিক্ষক বললেন, ‘সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 10:19 PM

Updated : 27 Oct 2026, 10:19 PM

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করা সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন, “আপনাদের সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক।

এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

পাঠ্য পুস্তক বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেন এলাকাবাসী ও সাংবাদিক। এরপর টেন্ডার ছাড়াই গোপনে পাঠ্যপুস্তক বিক্রির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্য পুস্তত সংগ্রহ করে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বই সংগ্রহের পর সেগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ না করে কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

দুপুরে গোপন খবর পেয়ে বিদ্যালয়টিতে যান সাংবাদিকরা। সেখানে গিয়ে বই বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার দৃশ্য দেখতে পান তারা।

বই কেনার সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “টেন্ডার ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার কাছে ২১ টাকা কেজি দরে বইগুলো বিক্রি করেছেন। এখানে প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি করে রয়েছে। আমাদের আর কী করার আছে? আমি ২১ টাকা কেজি দরে বই কিনেছি, বিক্রি করব ২২ টাকা দরে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর অভিযোগ, ব্যবস্থাপক ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে নিয়মিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলে। প্রধান শিক্ষকের যোগদানের এক বছর হয়েছে। ব্যবস্থাপকের হাত না থাকলে কীভাবে প্রধান শিক্ষক এ ঘটনা ঘটাতে পারেন?

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের কাছে প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষার্থী, বইয়ের জন্য কত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কত বই পাওয়া গেছে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিডিও মুছে ফেলতে অনুরোধ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনি সম্মানিত মানুষ, আপনাদের সম্মানী দিয়ে দিচ্ছি। ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।”

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা মোবাইলে বলেন, সরকারি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সেই বই যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে কেজি দরে বিক্রি করা হয়, তবে তা গুরুতর অনিয়ম।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।