০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

সবজির বাজারে ‘একটু স্বস্তি’, আরও কমেছে ডিমের দাম

“বাজারে সবজি আছে প্রচুর। দাম ঠিকই আছে, এবার মনে হচ্ছে বাড়েনি,” বলেন মরিয়ম আক্তার নামে এক ক্রেতা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 11:10 PM

Updated : 06 Nov 2026, 11:10 PM

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে তরিতরকারির দাম কমতে শুরু করেছে।

কয়েকটি সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

ডিমের দামও আরও কিছুটা কমেছে; তবে গত সপ্তাহের মতই আছে মাছ-মাংসের বাজার।

শুক্রবার ঢাকার রায়েরবাগ, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা ও মহাখালী বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সবজির দাম কমছে

ক্রেতা-বিক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কমেছে শিম, লাউ ও ফুলকপির দাম। শুক্রবার ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে শিমের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

এদিন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে মাঝারি আকারের ফুলকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। চিচিঙ্গা ৫০ টাকা কেজি এবং লাউ প্রতিটি কেনাবেচা হচ্ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

মতিঝিল বাজারে লম্বা বেগুন ৫০ টাকা এবং গোল বেগুন ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম।

এ বাজারে পেঁপে ২০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, দুন্দুল ৫০ টাকা, করলা ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কর্মজীবী নারী মরিয়ম আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই সময়ে তো ফুলকপি একটু মজা লাগে। বাজারে সবজি আছে প্রচুর। দাম ঠিকই আছে, এবার মনে হচ্ছে দাম বাড়েনি।”

দরদাম করে ৪০ টাকায় একটি ফুলকপি কেনার পর তিনি বলেন, “তেল-গ্যাসের দাম বাড়ছে। ভাবছিলাম সবজিও বাড়বে। এইটা একটু স্বস্তির।”

মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও রায়েরবাগ বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে ৬০ টাকায়।

সালাদের উপকরণ হাইব্রিড শসা প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং দেশি জাতের শসা সেগুনবাগিচা বাজারে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

মাছ-মাংসের বাজার আগের মতই

মতিঝিল টি অ্যান্ড টি কলোনি বাজারের বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন মাছের দাম আগের মতোই। এক বছরে তো খুব বেশি হেরফের হয়নি। দরদাম করেই সবাই কেনেন। ২০-৩০ টাকার পার্থক্য সব সময়ই থাকে।”

এ বাজারে ৫ কেজি ওজনের কাতলা প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫ কেজির কম ওজনের কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।

মহাখালী কাঁচাবাজারে ৫ কেজি ওজনের কাতলা প্রায় একই দামে বিক্রি করেন আব্দুল লতিফ।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়। বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “মাছ যা আনছি, তা সবই বিক্রি হয়ে গেছে। বাজারে কোনো দোকানে মাছ নাই। দাম তো একই রকম আছে। শুক্রবার তো একটু বেশি বেচাকেনা হয়। সবাই বেশি করে নিয়ে ফ্রিজে রাখে।”

সেগুনবাগিচায় পুঁটি মাছ কেজিতে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও রায়েরবাগ বাজারে দাম ৩০০ টাকা।

মতিঝিলে প্রতি কেজি রুই ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, বড় আকারের চাষের তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী কাঁচাবাজারে মলা মাছ ৪০০ টাকা ও কাচকি মাছ ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারে পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, “নাতি চিংড়ির জেদ ধরেছে। তাই চিংড়ি নিলাম ৭৭০ টাকা কেজি দরে।”

মহাখালী বাজারে মাঝারি আকারের এই চিংড়িই শুক্রবার বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানান বিক্রেতা আব্দুল লতিফ।

রায়েরবাগ ও সেগুনবাগিচা বাজারে ব্রয়লার মুরগি আগের মতো প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি বা কক মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৪০ টাকা।

গরুর মাংস আগের সপ্তাহের মতো প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। সে হিসাবে ডিমের হালির দাম পড়ছে ৪৫ টাকা।