১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জে ‘গোলাগুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সাহেব আলী নিহত

তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জে ‘গোলাগুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সাহেব আলী নিহত

কোনো এক সময় পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের সাহেব আলী। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 09:46 PM

Updated : 12 Oct 2026, 10:14 PM

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুপক্ষের গোলাগুলির সময় এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলী (৪০) নামে ওই ব্যক্তি মারা যান বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।

নিহত সাহেব আলী ওয়াপদা কলোনির প্রয়াত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, হত্যা, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

তারেক আল মেহেদী বলেন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনির বউবাজার এলাকায় নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে গোলাগুলি হয়। এ সময় সাহেব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তার পাশের একটি খালে পড়ে যান।

পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় র‍্যাব-১১ (বর্তমানে এসআরবি)। এ সময় সাহেব আলীর বাহিনীর সদস্যরা র‍্যাবের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হন।

এরপর ১৫ অক্টোবর সুনামগঞ্জ থেকে সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পুলিশ জানায়, ওয়াপদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ার নামে একটি বহুতল ভবনের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাহেব আলীর হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তিনি গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হয়ে সড়কের পাশের খালে পড়ে যান তিনি।

পাশের ভবনের সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক দৌড়ে এসে সাহেব আলীকে কাছ থেকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি খালে পড়ে গেলে ওই যুবক তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি করেন।

তারেক আল মেহেদী বলেন, সাহেব আলী এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত বছরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে বাহিনীর সদস্যদের ছোড়া গুলিতেই সাহেব আলীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি। সিসিটিভি ভিডিও দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”