১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মোহাম্মদপুরে গুলি ও চাপাতির কোপে বাবা-ছেলে আহত

পাটালি ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে হামলার এ ঘটনা ঘটে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য।

মোহাম্মদপুরে গুলি ও চাপাতির কোপে বাবা-ছেলে আহত

গুলিবিদ্ধ সুমন আলী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 11:09 PM

Updated : 16 Oct 2026, 12:13 AM

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিবাদের জেরে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কোপানোর ঘটনায় বাবা ও ছেলে আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনরাস্তা মোড় সংলগ্ন ময়ুরভিলার কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান।

গুলিবিদ্ধ বাবা সুমন আলী (৪৫) ও আহত ছেলে ফাহিমকে (১৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদপুরের পাটালি ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জের ধরে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ বলছে, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় অধিপত্য করা নিয়ে এই দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয় গ্রুপ এলাকায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

আগের দিন বুধবার রায়েরবাজারে পাটালি গ্রুপের হামলায় একজন আহত হওয়ার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে তথ্য দেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মামুন।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ সুমন আলী পাটালি গ্রুপের সদস্য। তার ছেলে ফাহিম চাপাতির কোপে আহত হয়েছেন।

Image

আহত ছেলে ফাহিম।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার ‘রাজ বারবার জোন’ সেলুনে চুল কাটানোর সময় ফরহাদ নামে একজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে ফরহাদও পাটালি গ্রুপের সদস্য ছিলেন। নিহত ফরহাদের ভগ্নিপতি গুলিবিদ্ধ সুমন।

পুলিশ কর্মকর্তা মামুন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিনে এসব গ্রুপের অন্তত অর্ধশত সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

সবশেষ এ হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর আহত সুমন আলীর ছেলে ফাহিম বলেন, রাতে নিজেদের কাঁচামালের দোকানে বসে থাকার সময় হঠাৎ মুখে মাস্ক, রুমাল ও ক্যাপ পরা ছয়জন দোকানে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর দৌড় দিলে তারা পেটের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। দূর থেকে বাবা বিষয়টি খেয়াল করে দৌড়ে বাঁচাতে আসে। তিনি হামলাকারীদের একজনকে ধরেও ফেলেন। পরে তারা বাবার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি করে।

 তার অভিযোগ, হামলাকারীরা সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য। তাদের ছয়জনের মধ্যে মুন্না (২৬), রাব্বি (২৬) ও মনির হোসেন নামে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে।

আহত ফাহিম বলেন, “গত মাসে ফরহাদ নামে একজন খুন হয়। আপনারা হয়তো বিষয়টি জানেন। ফরহাদ আমার মামা হয়। মামাকে খুন করা হয়েছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করছি। কারণ ওই খুনের পর আমার বাবা মিডিয়ার সামনে কথা বলেছিল।সেই শত্রুতা থেকেই তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।”