নারায়ণগঞ্জে গুলি করে নালায় ফেলার পরও গুলি, সেই ‘শুটার’ গ্রেপ্তার
“আমাদের দল একটাই—বাংলাদেশ। বাংলাদেশই আমার রাজনৈতিক দল,” বলেন এসআরবি-১১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুপক্ষের গোলাগুলির সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করে পাশের নালায় ফেলে দেওয়ার পরও আবার গুলি করার ঘটনায় রনি নামে একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
এসআরবি বলছে, সাহেব আলী নামে ওই ব্যক্তিকে গুলি করেছেন এই রনি। তাকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
তিনি বলেন, রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি এসআরবির।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, দিনের বেলায় সাহেব আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতরা পালিয়ে যান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি। একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আশ্রয় নেন ‘মূল শুটার’ রনি। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, সাহেব আলীকে প্রথমে গুলি করার পর তিনি পাশের একটি নালায় পড়ে যান। পরে রনি আবারও গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনির বউবাজার এলাকায় নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে দুপক্ষের গোলাগুলি হয়।
ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলীর মৃত্যু হয়। তিনি ওয়াপদা কলোনির প্রয়াত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। সাহেব আলী এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বলে ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সাব্বির নামে মামলার তিন নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে মাসুদ পারভেজ বলেন, নিহত সাহেব আলী ও গ্রেপ্তার রনি দুজনই এলাকার সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তারা একই গ্রুপে কাজ করতেন। তবে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের হাতে রাখা এবং কারবারের ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে সাহেব আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সুযোগ পেয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক বলেন, সাহেব আলী ও রনি দুজনকেই এর আগে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তারা জামিনে মুক্ত হন। রনির বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাসুদ পারভেজ বলেন, তারা মূলত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এলাকায় খোঁজ নিলেও বিষয়টি জানা যাবে।
তিনি বলেন, “আমরা কাজ করতে গিয়ে কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখি না। দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, এসআরবি-১১ কোনো অভিযানে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেয় না। আমাদের দল একটাই—বাংলাদেশ। বাংলাদেশই আমার রাজনৈতিক দল। আমি আমার অবস্থান বলতে পারি, অন্যদের বিষয়ে কিছু বলব না।”
