০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জনসংযোগে গুলি: সরোয়ারের হত্যাকারী কে? পুলিশ বলছে এখনো শনাক্ত হয়নি

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ একজন সরোয়ারের ঘাড়ে বাঁ হাত দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 04:02 PM

Updated : 04 Nov 2026, 04:02 PM

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি জনসংযোগ চলাকালে পেছন থেকে ঘাড়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যার ঘটনায় কতদূর এগোলো তদন্ত?

ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাম হাত দিয়ে কেউ একজন সরোয়ারের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার দৃশ্য দেখা গেলেও পুলিশ বলছে, এক বছরেও হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি তারা। উদ্ধার হয়নি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও।

মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে তুলে ধরে পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া কথাও বলছে তারা।

গেল বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী পূর্ব মসজিদের কাছে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি জনসংযোগে গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে সরোয়ার নিহত হন, যিনি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’।

গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইরফানুল হক শান্ত।

এছাড়া আমিনুল হক ও মর্তুজা হক নামে আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, যারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়

সরোয়ার হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে সাত জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

যেখানে প্রধান আসামি করা হয় বিদেশে পলাতক ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ বড় সাজ্জাদকে।

এছাড়া মো. রায়হান, ডেভিড ইমন, বোরহান, আলাউদ্দিন, মো. হেলাল ও নিজাম উদ্দিন হাবিবকে।

এদের মধ্যে ঘটনার দুই দিন পর আলাউদ্দিন ও হেলালকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব (বর্তমান এসআরবি)।

গত ২৯ অগাস্ট যশোর হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় ডেভিড ইমন।

এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বায়েজিদ থানা পুলিশ দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল। রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্যতম আসামি রায়হান ও বোরহানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

‘মৃত্যুর আগে হুমকি পেয়েছিলেন সরোয়ার’

মামলায় আবদুল কাদের অভিযোগ করেছেন, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে বড় সাজ্জাদ বিদেশ থেকে সরোয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে ‘তোমার সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নাও’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন।

এছাড়া ওই বছরের মার্চ মাসে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় প্রাইভেট কারে গুলিতে দুই জন খুনের ঘটনাটিও সরোয়ারকে টার্গেট করে করা হয়েছিল এবং সেখানে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বলে মামলায় বলেছেন আবদুল কাদের।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যা দেখা গিয়েছিল

ঘটনার পরপর জনসংযোগে গুলির দৃশ্যর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দেখা যায়, বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ নেতাকমীদের নিয়ে লিফলেট বিলি করছেন দোকানে। তার পেছনে সাদা গেঞ্জি পরে দাঁড়ানো সরোয়ার।

এ সময় হঠাৎ এ কর্মীদের ভিড়ে ঢুকে পড়ে কেউ একজন সরোয়ারের ঘাড়ে বাঁ হাত দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। একের পর এক সাত থেকে আটটি গুলি করা হয়।

পুলিশ যা বলছে

বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ঘটনায় আমাদের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন। মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।

“সোমবার এ মামলার অন্যতম আসামি মোবারক হোসেন ইমনকে (ডেভিড ইমন) জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছি। তার কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।”

মামলটি দ্রুত সময়ে অগ্রগতি হবে, এমন কথা ওসি বললেও অস্ত্র উদ্ধার ও গুলি বর্ষণকারীকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি।

পুরনো খবর:

ছিলেন সাজ্জাদের সাগরেদ, দিলেন টক্কর, সেটাই কাল হলো সরোয়ারের?
শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ারকে ‘টার্গেট করেই’ গাড়িতে গুলি
সরোয়ার খুনের ঘটনায় মামলা
চট্টগ্রামে জনসংযোগের সময় গুলিতে নিহত ১, বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ হাসপাতালে