Published : 07 Nov 2025, 12:29 PM
চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলিতে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যার ঘটনায় মামলা করেছে তার পরিবার।
শুক্রবার সাতজনের নাম উল্লেখ করে সরোয়ারের বাবা আব্দুল কাদের মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ওসি বলেন, মামলায় রায়হান, ইমনসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে সরোয়ার হত্যার ঘটনায় আলাউদ্দিন ও হেলাল নামের দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র্যাব-৭।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকীয়া পাড়ায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে ঘোষিত বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারণায় এলোপাথারি গুলিতে খুন হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা। আহত হয়েছেন এরশাদ উল্লাহসহ আরও চারজন।
হত্যাকাণ্ডের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরোয়ারকে ‘টার্গেট’ করে হামলা চালানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রায় দেড় দশক আগে আলোচনায় আসে সরোয়ার হোসন বাবলা ও তার বন্ধু নুরুন্নবী ম্যাক্সনের নাম। সে সময় তারা পরিচিত ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি সাজ্জাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে।
চালিতাতলী এলাকার আব্দুল গণি কন্ট্রাক্টরের ছেলে সাজ্জাদের নাম আলোচনায় আসে নব্বই দশকের শেষ দিকে। তখন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত এই যুবক খুনসহ অনেক মামলার আসামি হন।
২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী হত্যায় নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ড পেয়েছিলেন সাজ্জাদ। পরে উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় খালাস পান। এক সময়ের ‘শিবির ক্যাডার’ সাজ্জাদকে ধরতে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিস’ও ছিল।
এই সাজ্জাদের সঙ্গে চলার পথে বিরোধ দেখা দিলে আলাদা দল গড়েন সরোয়ার। তখন সাজ্জাদের ডান হাত হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ।
বায়েজীদ, চান্দগাঁও এলাকার একটি বড় অংশে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের খবর শোনা যায়। বড় সাজ্জাদের হয়ে ছোট সাজ্জাদ এবং সরোয়ার নিজেই তার অনুসারীদের দিয়ে চাঁদাবাজি করতেন।
এর মধ্যে বুধবার প্রকাশ্য গুলিতে প্রাণ হারান সরোয়ার।