কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: একজনের খোঁজ মিলছে না
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, “ফরেনসিক ছাড়া আসলে বলা অসম্ভব—যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও আর কারও দেহাবশেষ আছে কি না।”
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া আগুন লাগার সময় দুজন রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে প্রশাসন। তবে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
এ অবস্থায় নিখোঁজদের সন্ধানে রোববার সকালে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালায় ফায়ার সার্ভিস। পরে বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তল্লাশি শেষ হলেও নতুন করে কোনো দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।
রোববার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে ১৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরে দুজন বেরিয়ে যেতে পারেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ায় নিখোঁজের সংখ্যা কমে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জেনেছিলাম, ঘটনার পর জিহাদ ও আবেদুল নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আজ (রোববার) ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি, তারা হয়তো বেরিয়ে যেতে পেরেছেন।”
তবে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ইউএনও।
আরও কোনো মরদেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে পান্না আক্তার বলেন, “ধারণা করে বলতে হচ্ছে সব। ফরেনসিক ছাড়া আসলে বলা অসম্ভব—যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও আর কারও দেহাবশেষ আছে কি না।
“থাকতেও পারে, কারণ সেখানে একটি বাচ্চা নিখোঁজ আছে। দরকার হলে আরও অধিকতর তদন্ত হবে। সকলের ফোন নম্বর ট্রেস করা হচ্ছে।”
নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবারও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে জানান তিনি।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রিসোর্টটি কংক্রিটের কাঠামোর ওপর বাঁশ, কাঠ ও কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। মেঝেতেও কাঠের ব্যবহার ছিল। আগুনে স্থাপনাটি পুড়ে যাওয়ার পর কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নিচে ধসে পড়ে।
নিখোঁজের ১০ জনই ২ পরিবারের
প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে একটি বর্ধিত পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।
তারা হলেন, ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, মালিহার বোন লায়লা জাহান নাবিলা, খালাতো বোন মিথিলা মেহজাবিন আলভি, আরেক খালাতো বোন ফারিহা কবির, ফারিহার ছেলে ফায়জান নূর এবং ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাফিস তেহামি জেরিফ।
নিহত ফারিহার স্বামী নূর আলম শনিবার বিকালে মোবাইলে বলেছিলেন, বুধবার স্ত্রী ফারিহা, সাত বছরের ছেলে ফায়জান, তিন শ্যালিকার পরিবার ও এক শ্যালককে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে যান। অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে তিনি চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।
শনিবার অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের মধ্যে স্ত্রী, ছেলে, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালক নিখোঁজ আছেন।
অন্য একটি পরিবারের চার সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।
তারা হলেন- যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী আফসানা ও তাদের সাত বছরের মেয়ে রোবাইনা এবং তিন বছরের মেয়ে সুনাইনা।
নাহিদুর ঢাকায় শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকাতেই বসবাস করতেন।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে বলেছিলেন। শনিবার আগুনের ঘটনা জানার পর ভাইকে মোবাইলে ফোন দেন। কিন্তু তিনি মোবাইলে নাহিদুর বা পরিবারের কাউকে পাচ্ছেন না।
নিখোঁজদের তালিকায় অপরজন ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা।
এ ছাড়া জিহাদ হাওলাদার ও আবেদুল ইসলামও প্রথমে নিখোঁজদের তালিকায় ছিলেন। তবে তারা রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: প্রাণ বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফ দেন শায়ান দম্পতি
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: আরও একজনের খোঁজে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে বাঁচেন চিকিৎসক দম্পতি
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: নাহিদুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুঁজছে পরিবার
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ
কক্সবাজারে আগুনে নিহত ১০: রিসোর্টের একজন হেফাজতে
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: চলে আসায় বেঁচে যান নূর আলম, স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন নিহত
সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা পরিবারটির, তার আগে আগুনে প্রাণ গেল ছয়জনের
১০টা মিনিট পেলে স্ত্রীও নামতে পারতেন: কক্সবাজারে আগুনে আহত আশিকুল
