১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা পরিবারটির, তার আগে আগুনে প্রাণ গেল ছয়জনের

সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে একই পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন।

সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা পরিবারটির, তার আগে আগুনে প্রাণ গেল ছয়জনের

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন একই পরিবারের নিহত ছয়জনের আত্মীয় আমিনুল ইসলাম। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 05:08 PM

Updated : 17 Oct 2026, 05:28 PM

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে একই পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় এ ঘটনার সময় পরিবারের দুই সদস্য সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফলে তারা বেঁচে যান। অপর একজন আগুনের মধ্যে রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচেন। তবে তিনি আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে; দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ১০টি লাশ পাওয়া গেছে। তবে লাশগুলো ভয়ানক রকমভাবে পুড়ে অঙ্গার গেছে। চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

ওই পরিবারের স্বজনরা বলছেন, তাদের পরিবারের ছয়জন হয়ত ওই ১০ মধ্যে আছেন। ঘটনার পর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

তারা হলেন- ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, তার শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি ও ফারিহা কবির এবং পরিবারের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাফিস তেহামি জেরিফ ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ।

স্বজনরা বলছেন, পরিবারটি বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। শনিবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আগে সকালে আগুন সব তছনছ করে দেয়।

পরিবারের যে দুজন সদস্য সৈকতে ছিলেন, তারা রিসোর্টে আগুন লাগার বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ছুটে যান। কিন্তু আগুনের প্রবল তাপের কারণে আর রিসোর্টের ভেতর যেতে পারেননি। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আর যোগযোগ করতে পারেননি। পরে তারা ঢাকায় থাকা তাদের আত্মীয় আমিনুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে জানান। আমিনুল সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা থেকে বিমানে করে কক্সবাজার পৌঁছান।

নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাগনে-ভাগনিসহ ছয়জন মারা গেছেন। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিকারুননিসার শিক্ষার্থী আছে। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছেন। এক ভাগনির ছোট বাচ্চাও মারা গেছে।

“দুদিন আগে তারা এসেছিল। পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। তিনজন বেঁচে আছেন। আজকে সকাল সাড়ে ১০টায় ওদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।”

পুরনো খবর:

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ
১০টা মিনিট পেলে স্ত্রীও নামতে পারতেন: কক্সবাজারে আগুনে আহত আশিকুল
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত বেড়ে ১০, ‘ছয়জনই এক পরিবারের’